গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক মো: মুরাদ আলীর অনিয়ম দুর্নীতি

মো: আবদুল আলীম
গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী খানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। জেলার জয়দেবপুর মৌজায় ড্যাপের নকশায় চিহ্নিত জলাশয়ে ১৩ তলা ভবন নির্মানে নকশা অনুমোদন ও জমির ছাড়পত্র তৈরিতে সহায়তা করেন তিনি ও নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ। সিএস-৮৭৫ (অংশ), আরএস ২৪৫৩ (অংশ) খন্দকার নাজিমউদ্দিন গং এর অনুকুলে মহানগরির ২৮ নং ওয়ার্ডের বারুদা এলাকায় ৩৬ শতাংশ জমিতে এই ভ’মি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদান করা হয়ে উভয়ের যোগসাজসে। অধিকন্ত এলাকার ২৮ নং ওয়ার্ডে ছায়াবিথী নামক এলাকায় বেজম্যান্টসহ ১০ তলা ভবনের ভ’মি ব্যবহার ছাড়পত্র ও অনুমতি দেওয়া হয় আক্তারুজ্জামান শুকুর গং এর নামে। ড্যাপে উল্লিখিত জলাশয়ের আশেপাশে আরও একাধিক ভবন নির্মানে ভ’মি ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন দিতে জোড়ালো ভ’মিকা রাখেন মো: মুরাদ আলী খান। এসব অনিয়ম করে তিনি ও নগর পরিকল্পনাবিদ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভবন নির্মানে প্রতিটি ফাইলে তিনি ‘এম’ চিহ্ন লিখে দেন। এটি একটি সংকেতিক চিহ্ন। এম অর্থ মুরাদ। এম চিহ্ন ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদন হয় না। এভাবে চিহ্ন ব্যবহার করে প্রতিটি ফাইল থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করেন। ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী খান অঢেল সম্পদের মালিক। এসব সম্পদের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:
১। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের চৌরাস্তা নলজানি গ্রেটওয়াল সিটি বাজারের অপর পাশে নির্মানাধীন ১০ তলা ভবনে তার ২ টি ফ্ল্যাট। এই ফ্ল্যাট তিনি কৌশলে তার বোন ও স্ত্রীর নামে রেখেছেন।
২। গাজীপুর সিটির চৌরাস্তায় ১৭ নং ওয়ার্ডে পালের মাঠ শহীদ বরকত সরনী রোডে তার স্ত্রী রোকসানা পারভীন, পিতা: আশরাফুল আলম খান ও বন্ধু আনিসুর রহমানের নামে ৩ টি আলীশান বাণিজ্যিক ভবন নির্মান করেছেন মুরাদ আলী।
৩। নলজানি ৭ নং রোডে সি বøকে গণসেবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অপর পাশে নির্মনাধীন দুইটি ১০ তলা ভবনের দুইটি ফ্লোর রয়েছে মুরাদ আলীর নামে।
৪। সানরাইজ টাওয়ারের ঠিক অপরপাশে পার্টনারশিপে ২৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। তবে কৌশলে জমিটি তার বোনের নামে কেনা হয়। জমিটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। জমির দলিল নং ৬৯৫/২৫। এই জমিতে বর্তমানে একটি কাপড়ের গোডাউন রয়েছে।
৫। গাজীপুর ডুয়েটের অপরপাশে পশ্চিম ভুরুলিয়া সাত্তার সরনী (রাঙ্গামাটি নীড়) রোডের শেষ মাথায় একটি ৫ তলা ভবন নির্মান করছেন তিনি। এর পাশেই একটি ৭ তলা ভবনে ২৫০০ স্কায়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট আছে তার নামে। ভবনটির নাম মিতালি ভবন। তার আরও সম্পদের তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে যা পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একাধিক ইমারত পরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ রাজউকে কর্মরত থাকা অবস্থায় ঢাকার কেরানীগঞ্জে বেশ কয়েকটি ভবনের মালিক বনে যান। এই ব্যাপারে ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী খান ও নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগের মতামত/বক্তব্য জানার জন্য তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি তা রিসিভ করেন নাই। অবশেষে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান এবং সচিব মো: মেহেদী হাসান এর বক্তব্য/ মতামত জানার জন্য তাদের বরাবর অপরাধ বিচিত্রা হতে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পত্র প্রেরন করেও তাদের কোনো মতামত/বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।



