রাজনীতি

কাজ না করেই বিল দাবি! মুরাদনগরে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগরে নির্ধারিত সময়ের পরেও সড়কের কাজ না করেই বিল দাবী করেছেন এক যুবলীগ নেতা। বিল দাবী করেই ক্ষান্ত হয়নি সে। বিল এবং উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যাহার দাবীতে করেছেন মানববন্ধনও।
এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রজ্জব হোসেন রাজুর বিরুদ্ধে। সারাদেশে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেস টু-তে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মী গ্রেফতার হলেও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজুরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বত্র। এবং প্রশাসনকে বিতর্কিত করতে বিভিন্ন ছক কষছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ২রা মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মুরাদনগর উপজেলার দীঘিরপাড়- কুড়াখাল- ব্রাহ্মণচাপিতলা সড়কের ৮শত ২২মিটার সংস্কার উন্নয়ন কাজের অনুমোদন পায় যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজুর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাহাত এন্টারপ্রাইজ। যার মূল্য ধরা হয়েছে ৮৫লক্ষ ৪৩হাজার ১৯৭টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৯ই মার্চ ২০২৩ তারিখ থেকে কাজ শুরু করে ৮ই মার্চ ২০২৪ তারিখের মধ্যে সমাপ্ত করার কথা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে প্রতিদিন নির্ধারিত ম‚ল্যের ০.০৫ শতাংশ হারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুনতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে আরো প্রায় ১৮মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের পরে আরো প্রায় ২বছর হতে চলছে কাজের অগ্রগতি হয়েছে টেনেটুনে মাত্র ৪০শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৭লক্ষ ৭২হাজার টাকার বিলের জন্য সুপারিশও করেছি। কিন্তু গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঠিকাদার এই সড়কের কাজটি করবে না মর্মে জানান। ঠিকাদারি চুক্তি অনুযায়ী বিলম্বিত সময়ের জরিমানা ও বাস্তবায়ন করা কাজের বিল সমন্বয় করে সরকার এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬লক্ষ টাকা পাওনা হয়েছে। সরকারি পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো উপজেলা প্রকৌশলী তার বিল দিচ্ছে না বলে ঘুষ দাবীর মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মানববন্ধন করেছে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কাজ তিন বছরেও শেষ না করায় ভোগান্তি কারণে বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে স্থানীয় জনসাধারন। তাদের দাবী সরকার মুরাদনগর উপজেলার মানোন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রদান করলেও এই যুবলীগ নেতার কারনে আমরা এর সুফল আজো পাইনি।

এব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদার যুবলীগ নেতা রজ্জব হোসেন রাজু কাজ করার সময় শেষ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন কাজটি পাওয়ার পর আমার আওয়ামী লীগের দলীয় লোজনের বাঁধায় আমি কাজটি সঠিক সময়ে করতে পারিনি। কাজের অগ্রগতি না থাকায় মেয়াদ বাড়ানোও সম্ভব হয় নি। সরকার পতনের পর যতটুকু কাজ করেছি সেই বিলটা পেলে বাকী কাজটা করতে পারতাম।

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, কাজটি ২০২৩ সালের হলেও ২০২৬ সালে কাজটির মাত্র ৪০% অগ্রগতি হয়েছে। তাকে ১ম চলতি বিল বাবদ ১৭ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা সুপারিশ করলেও তিনি যথাসময়ে কাজ বাস্তবায়ন না করায় তার সাথে ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী চলতি বিলে জরিমানা আরোপ করা হয়। পরে সে কাজটি আর বাস্তবায়ন করবেন না জানিয়ে বাতিল করে দিতে বলেন। তারপর সড়কের চ‚ড়ান্ত মেজারমেন্টের জন্য তাকেসহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তার কাজটি জরিপ করা হয়। কাজ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর কাউকে চলতি বিল প্রদানের কোন সুযোগ নেই, চ‚ড়ান্ত বিল প্রদান করতে হবে। ঠিকাচুক্তি মোতাবেক অবশিষ্ট কাজের উপর ১০% জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে তাই তাকে আর চলতি বিল প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
ঠিকাদার যথাসময়ে কাজ করেনি বিধায় বিলে জরিমানা আরোপের বিষয়টিকে ধাপাচাপা দিতে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button