আইন-শৃঙ্খলারাজনীতিহত্যাকান্ড

কাউন্সিলর বাপ্পীর নির্দেশেই খুন হন ইনকিলাব মঞ্চের হাদি: ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম বাপ্পীর প্রত্যক্ষ নির্দেশেই হত্যা করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

তদন্ত ও চার্জশিট ডিবি প্রধান জানান, শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে মামলার অন্যতম আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছিলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং ৭ জানুয়ারির মধ্যে চার্জশিট দাখিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়েই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলো।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

চিকিৎসা ও মৃত্যু ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জানাজা ও দাফন গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এই তরুণ নেতার মরদেহ দেশে আনা হয়। পরদিন ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো জনতার অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। পরে বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button