অপরাধদুর্নীতি

কে এই মতিউর রহমান মতি ; নিয়োগবিধিকে উপেক্ষা করে সার্ভেয়ার থেকে ফরেস্টার!

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ বন বিভাগে এক রহস্যময় উত্থানের নাম মতিউর রহমান। সার্ভেয়ার পদ থেকে কীভাবে তিনি ফরেস্টার হলেন সে প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। বরং এই পদোন্নতিকে ঘিরে উঠছে গুরুতর অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।

বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাষ্য, মতিউর রহমানের ফরেস্টার হওয়া কোনো স্বাভাবিক পদোন্নতি নয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগবিধি, পদোন্নতির শর্ত ও প্রশাসনিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে তৎকালীন প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর ছত্রচ্ছায়ায় তিনি সার্ভেয়ার থেকে ফরেস্টার পদে আসীন হন। প্রশ্ন উঠেছে এই পদোন্নতির নথি কোথায়? অনুমোদনই বা কে দিয়েছেন?

অভিযোগ আরও গুরুতর। অ্যাডহক ফরেস্টার থাকা অবস্থায় তিনি টানা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী যেখানে অ্যাডহক পদ মানেই অস্থায়ী ও সীমিত দায়িত্ব, সেখানে কীভাবে তিনি দীর্ঘদিন পূর্ণ রেঞ্জ কর্মকর্তার ক্ষমতা ভোগ করলেন—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বন প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র। আরও বিস্ময়কর হলো, অ্যাডহক ফরেস্টার হিসেবে তিনি কখনো ডেপুটি রেঞ্জার পদে বৈধ পদোন্নতি পাননি। অথচ বাস্তবে তিনি ডেপুটি রেঞ্জার ও ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার ক্ষমতা একসঙ্গে ব্যবহার করে এসেছেন বলে অভিযোগ। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ঢাকা শহরে তার নামে বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট ও স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। চাকরি জীবনের বড় একটি সময় তিনি রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে, ঢাকা মতো লোভনীয় এলাকায় কর্মরত ছিলেন। মাঠকর্মীদের প্রশ্ন—একজন অ্যাডহক ফরেস্টারের ক্ষেত্রে এত বছর ধরে একই ধরনের সুবিধাজনক পোস্টিং কীভাবে সম্ভব? কারা তাকে শক্তি দিচ্ছে?

সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ হলো মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করানো এবং চাঁদা সংগ্রহের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যে জড়িত থাকার বিষয়টি। এসব অভিযোগ শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো বন প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত মাঠকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বলছেন, মতিউর রহমানের অবৈধ ফরেস্টার হওয়া ও সম্পদের উৎস তদন্ত না হলে বন বিভাগে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। তারা তার চাকরিজীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি পোস্টিং, পদোন্নতি ও সম্পদের খতিয়ান জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button