আন্তর্জাতিক

হিজাব বিরোধী আন্দোলন যেভাবে পাল্টে দিল ইরানের রাজনৈতিক সমীকরণ

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্কঃ ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২২ সালে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভের (যা “মাহসা আমিনি প্রোটেস্ট” নামে পরিচিত) পেছনে একটি মাত্র কারণ নেই; বরং এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

এর কারণগুলোকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. তাৎক্ষণিক কারণ (The Immediate Trigger)
বিক্ষোভের মূল স্ফুলিঙ্গ ছিল মাহসা আমিনির মৃত্যু।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনিকে ইরানের ‘মোরালিটি পুলিশ’ বা নীতি পুলিশ আটক করে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি ঠিকমতো হিজাব পরেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে যে তাকে মারধর করা হয়েছিল (যদিও সরকার তা অস্বীকার করে)। এই ঘটনাই সারাদেশের মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে আনে।

২. দীর্ঘমেয়াদী ও মূল কারণসমূহ (Root Causes)
মাহসা আমিনির মৃত্যু ছিল বারুদে আগুনের মতো, কিন্তু বারুদ জমেছিল অনেক আগে থেকেই। এর পেছনের মূল কারণগুলো হলো:

ক) কঠোর হিজাব আইন ও নারীর অধিকার:

ইরানে নারীদের জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। অনেক নারী এই বাধ্যবাধকতা মেনে নিতে চান না।

নারীরা তাদের পোশাক ও জীবনযাপনের ওপর রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণের অবসান চান। এটি পরবর্তীতে “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” (Woman, Life, Freedom) স্লোগানে রূপ নেয়।

খ) অর্থনৈতিক সংকট:

বছরের পর বছর ধরে চলা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ইরানের অর্থনীতি ধুঁকছে।

মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব (বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে হতাশাগ্রস্ত করে তুলেছে।

গ) রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার অভাব:

ইরানে বাকস্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক মত প্রকাশের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

বিরোধীদের দমন, কঠোর সেন্সরশিপ এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো তরুণ প্রজন্মকে ক্ষুব্ধ করেছে। তারা বর্তমান শাসনব্যবস্থার (Theocratic regime) পরিবর্তন চায়।

ঘ) প্রজন্মের ব্যবধান (Generation Gap):

ইরানের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। তারা ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাইরের বিশ্বকে দেখছে এবং নিজেদের দেশের রক্ষণশীল নিয়মকানুনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে না। তারা আধুনিক ও মুক্ত জীবনের আকাঙ্ক্ষা করে।

একনজরে মূল দাবি
শুরুতে এটি হিজাব বিরোধী আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও, খুব দ্রুত এটি সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। মানুষ কেবল হিজাব আইনের সংস্কার নয়, বরং পুরো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন দাবি করতে শুরু করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button