আইন-শৃঙ্খলা

ফরিদগঞ্জে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে সন্ত্রাসী হামলা: যুবক আহত,লুঙ্গি খুলে প্রকাশ্যে অপমান, ভিডিও ভাইরাল

মো. রাজন পাটওয়ারী

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে রিয়াদ হোসেন নামে এক যুবক নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে তাকে মারধর করে রক্তাক্ত করার পাশাপাশি তার পরনের লুঙ্গি খুলে বিবস্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাটি ঘটে অদ্য ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬ নং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড চরমুঘুয়া গ্রামে আফজল পাটওয়ারী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিয়াদ হোসেন ও তার পরিবার ওয়ারিশ সূত্রে উক্ত জমির মালিক। কিন্তু একই এলাকার সজীব হোসেন নামের এক ব্যক্তি ওই সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে গাছপালা কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় রিয়াদ হোসেন প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তার মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত সজীব হোসেন ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী বিউটি আক্তার রিয়াদের হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিউটি আক্তার পেছন থেকে রিয়াদ হোসেনকে জড়িয়ে ধরে তার পরনের লুঙ্গি জোরপূর্বক খুলে ফেলে, তাকে অপদস্থ ও বিবস্ত্র করার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক সেই মুহূর্তে অভিযুক্ত সজীব হোসেন তার হাতে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে রিয়াদের ওপর তেড়ে এসে মাথায় আঘাত করেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিয়াদের কপাল ফেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে বিউটি আক্তারসহ আরও কয়েকজন লাঠি, কিল ও ঘুষি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে।

একপর্যায়ে গুরুতর আহত রিয়াদ হোসেন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও তার চাচা মিজান হোসেন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার মাথায় ৩ থেকে ৪টি সেলাই প্রদান করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিয়াদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন,
“আমি হাসপাতালে থাকাকালীন অভিযুক্ত বিউটি আক্তার এসে আমাকে টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমি কোনো আপস চাই না, আমি বিচার চাই।”

রিয়াদ হোসেন আরও জানান, এই ঘটনার ৩ থেকে ৪ মাস আগেও অভিযুক্ত সজীব হোসেন প্রবাসে থাকাবস্থায় বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। এসব হুমকির অডিও ও ভিডিও প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

রিয়াদের চাচা মিজান হোসেন বলেন, “চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ভাতিজা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। পরে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।”

তিনি আরও বলেন, “রিয়াদের ধারণ করা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় অভিযুক্ত সজীব হোসেনের হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসছে। ওই ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।”

মিজান হোসেন অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সজীব হোসেন অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সেই সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একাধিকবার ভয়ভীতি ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। তার কারণে এক সময় এলাকায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জমি সংক্রান্ত এই বিরোধের বিষয়ে এর আগেও একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে ১৬ নং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন, সোহেল খানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী রিয়াদ হোসেন অভিযুক্ত সজীব হোসেন, বিউটি আক্তারসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বর্তমানে রিয়াদ হোসেন ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button