১১ বছরেও বিচার কাজ শেষ হয়নি গাইবান্ধার অবিদীয় মার্ডি হত্যাকান্ডের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গত ১১ বছরেও বিচার কাজ শেষ হয়নি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এসিল্যান্ড অবিদীয় মার্ডি হত্যাকাণ্ডের। তার স্বজনরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন।
এদিকে অবিদীয় মার্ডির হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে রোববার ‘অবিদীয় মার্ডি স্মৃতি রক্ষা কমিটি, গোবিন্দগঞ্জ’ ফাঁসিতলায় এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাসকে। সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহত অবিদীয় মার্ডির স্ত্রী শেফালি চড়ে, ভাতিজি হ্যাপি মার্ডি, হীরা মুরমু, সংগঠনের ব্রিটিশ সরেন, আনিসুর রহমান মইনুল, শারমিন মার্ডি, সাহেব মুরমু প্রমুখ।
এর আগে একটি মিছিল এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশের শুরুতে শহীদ অবিদীয় মার্ডির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বক্তারা বলেন, সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের পরিকল্পনায় অবিদীয় মার্ডিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার কথা। অথচ তা না হওয়ায় বিচারের দাবি নিয়ে ১০ বছর ধরে আদালতের দ্বারে ঘুরছেন স্বজনরা।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি অবিদীয় মার্ডি নিজ বাড়ি নওগাঁর ধামুইরহাট থেকে মোটরসাইকেল যোগে গোবিন্দগঞ্জ অফিসে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম আখ খামারের কাটা-ফাসিতলা সড়কের মাঝামাঝি পৌঁছিলে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাঁকে আখ খামারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রেখে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধার তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকসহ ১৩ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন নিহতের বড়ভাই ফাদার স্যামসন মার্ডি।



