ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধে অন্তঃসত্ত্বা নারী খুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ঘরের সামনে ময়লা ফেলা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইদের ছুরিকাঘাতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী নিহত হয়েছেন।এ ঘটনায় নারীসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার জগৎপুর নাগরবাড়ী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহত নারী ফাহিমা আক্তার (২৫) জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে এবং দেবিদ্বার উপজেলার ছুটনা গ্রামের জহিরুল ইসলামের স্ত্রী।তিনি দুই কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন এবং চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি সেখানে আসেন বলে জানান স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়,রোববার দুপুরে ঘরের সামনে শিশুদের ব্যবহৃত একটি প্যাম্পাস ফেলা নিয়ে ফাহিমা আক্তারের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই সবুজ ও সাঈদের কথা-কাটাকাটি হয়।বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মিটমাট হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ঘটনার কিছু সময় পর পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,বিকেলের দিকে ফাহিমা আক্তার গোসলের জন্য ঘরে প্রবেশ করলে সবুজ, সাঈদসহ শিউলি আক্তার,কবির হোসেন,তাসলিমা,তানিয়া আক্তার,প্রবাসী কুদ্দুসের স্ত্রী পারভীন,রানা ও উর্মি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলায় বাধা দিতে গেলে পরিবারের আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
রক্তাক্ত অবস্থায় ফাহিমা আক্তারকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।পুলিশ জানায়,ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে।স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



