
মুহাম্মদ জুবাইর
২৫ লাখ টাকা ও মোটরসাইকেল চাঁদা না দেওয়ায় শ্রমিকদের রক্তাক্ত হামলা! আনোয়ারায় সরকারি উন্নয়নকাজে ত্রাস সৃষ্টি করা ট্যাটু সোহেল গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সরকারি উন্নয়নকাজকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ভয়ংকর চিত্র সামনে এসেছে।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ২৫ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল চাঁদা দাবি করে শ্রমিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগে দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. সোহেল ওরফে ট্যাটু সোহেল (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ট্যাটু সোহেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ছিনতাই ও সহিংসতাসহ অন্তত ১০টির বেশি চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে। এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘অঘোষিত আতঙ্কের নাম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের কেয়াগড় এলাকায় একটি সুইচগেট নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।প্রকল্পটির সাব-ঠিকাদার মো. শাহিন খান (৪০) অভিযোগ করেন, কাজ শুরুর পর থেকেই ট্যাটু সোহেল ও তাঁর সহযোগীরা নিয়মিত নির্মাণস্থলে গিয়ে ২৫ লাখ টাকা নগদ ও একটি মোটরসাইকেল চাঁদা দাবি করে আসছিল।
চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে এমন হুমকির পাশাপাশি ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে হত্যার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ট্যাটু সোহেল ও তাঁর সহযোগীরা নির্মাণস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে শ্রমিকদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত হন।
হামলাকারীরা নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর করে চারদিকে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে দেয় এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। এ সময় চাঁদা না দিলে ঠিকাদারকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করে লাশ নির্মাণস্থলে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ট্যাটু সোহেল আত্মগোপনে চলে যান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায়, আনোয়ারা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে এবং আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরীর নেতৃত্বে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে চাতরী ইউনিয়নের নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর ঠিকাদার মো. শাহিন খান বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী হামলা,ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন,গ্রেপ্তার সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।তাঁদের দাবি,সরকারি উন্নয়নকাজে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হবে।একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



