অব্যাবস্থাপনা

শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন ঘুষের বাড়ি ঘর

বৈরাম খাঃ

সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষ বাষ্পের ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে দেশও জাতির উন্নতি অগ্রগতি সম্মৃদ্ধি স্থিতিশীলতার প্রধান অন্তরাল হলো দূর্নীতি। এমন কোন সেক্টর নেই যা দূর্নীতির হিংসার থাবায় আক্রান্ত হয়নি। দূর্নীতি এখন সমগ্র বাংলাদেশে অকটোপাশের ন্যায় আকড়ে ধরে আছে। জনমনে প্রশ্ন? আমার দেশের বহু মায়ের আশার আলো নিভিয়ে দিয়ে যে বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে জীবন দিয়েছিল তা কি হবে? নাকি মিল্লা ঝিল্লা ভুমি অফিসগুলো গিলে খাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বলছিলাম দুধে ধুয়া তুলশীর পাতা শিদলাই ইউনিয়ন ভুমি অফিসের নায়েব শাহজাদী তাহমিনার কথা।

কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহজাদী তাহমিনা , যিনি এলাকায় ‘নায়েব ’শাহজাদী নামে পরিচিত, সরকারি বেতন মাত্র ৪০-৫০ হাজার টাকা হলেও ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের বেড়াখলা গ্রামের এক ভুক্তভোগী রুজিনা বেগম বলেন আমি যখন আমার বাবার ক্রয় করা জমির নামজারি করতে যাই তখন শিদলাই ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা শাহজাদী তাহমিনা বলেন এইটার মাঠ পর্চা উঠিয়ে আনতে হবে,তা ছাড়া খারিজ হবে না ঠিক তখন অন্য এক দালালের মাধ্যমে তিনি আমার নিকট হইতে ১৯ হাজার টাকা নিয়ে খারিজ করে দেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, ভূমি অফিসের খারিজ, খাজনা, নামজারি, পর্চা এবং অন্যান্য জমি সংক্রান্ত কাজে শাহজাদী তাহমিনা মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন। শুধু তাই নয় গ্রাহকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নামজারি, সাধারণ নামজারি, ‘ক’ ও ‘খ’ তফসিলভুক্ত জমির কাজও তিনি অনিয়মের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। একজন স্থানীয় ইতালি প্রবাসী মো: ফারুক সরকার অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন, “শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আমি একটি মসজিদের নামে জমি ওয়া কফ্ করে দিব বলে নামজারী করতে গেলে শাহজাদী তাহমিনা আমার নিকট ৪২ হাজার টাকা দাবী করেন।

প্রস্তাব পাঠাতে নরমাল নামজারির জন্য শাহজাদী তাহমিনার নিকট কাজ নিয়ে গেলেই লাগে হাজার হাজার টাকা দিতে হয়। জমির কাজ একটু জটিল হলে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ দিতে হয়।”

তার বিষয় জানতে চাইলে আরে ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম খন্দকার জানান, আমার একটি জমি বিক্রির কারণে নামজারি করতে ভুমি অফিসে গেলে শাহজাদী তাহমিনা দালাল রাসেলের মাধ্যমে আমার থেকে ১৯ হাজার টাকা নিয়ে খারিজ করে দেন।

শুধু তাই নয় “নামজারির জোত কেটে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্য জনের নামে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অন্য এক ভুক্তভোগী হালিমা আক্তার বলেন, “শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব ছাড়া কোনো কাজই হয় না, ঘুষ ছাড়া কেউ কাজ করে না।”

জানা যায়, শাহজাদী তাহমিনা দীর্ঘ দিন ধরে ভূমি অফিসে চাকরি করে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। কয়েক বছরের ব্যবধানে খারিজ, খাজনা, নামজারি, পর্চা এবং জমি সংক্রান্ত অন্যান্য কাজে ঘুষ ও দালালির মাধ্যমে অগাধ সম্পদ অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নায়েব লেনদেনের জন্য অবৈধভাবে ওমেদার নানান পন্থা ব্যবহার করেন।

আরেক ভুক্তভোগী মো: আবু কাউছার বলেন শিদলাই ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ইট বালিগুলো ও এখন টাকা ছাড়া ফাইলে হাত দেয় না। আমার এক খারিজে ১২ হাজার টাকা নিয়ে খাজনা রশিদ ২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়েছেন। মো: আবু জাহের সাবেক পুলিশ অফিসার অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন। এই মহিলা তহসিলদার শিদলাই গ্রামটারে চুইয়া খাইতাছে দেখার মত নেই কেহ। তাই আমি এই তহসিলদারকে বিরুদ্ধে অনিয়মের একটি অভিযোগ ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসে জমা দিয়েছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আস্বস্ত করলে এই পর্যন্ত নেই কোন প্রতিকার। কিন্তু আমরা আমাদের কষ্টের কথা গুলো কাকে বলব।

এই বিষয়ে জানতে নায়েব তাহমিনা অপরাধ বিচিত্রা কে বলেন, ভাই আমার চাকরির আর ১ বছর আছে এ সময় যেন সংবাদ প্রকাশ না করি আরো বলেন আমি সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করি।” অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিকে একাদিক বার ফোন করলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি , “যদি শিদলাই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব তো তার কাছে নেই।”

স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শাহজাদী তাহমিনার এমন ঘুষ ও অনিয়ম চলতে থাকলে সাধারণ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে। দালালদের মাধ্যমে চলা জমির লেনদেন, ফাইল জিম্মি এবং অগাধ সম্পদ অর্জনের কারণে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।এক দালাল আশরাফ অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন আমি নজরুল ইসলামের কাজে টাকা নিয়েছি কিন্তু আমি খাইনি নায়েব কে দিয়েছি আরেকটা বিষয় হল ১৯ হাজার টাকা বেশি নয়। সরকারি ফ্রী এসেছিল ৬০ হাজার তাসমিনা মেডাম ১৯ হাজার করে দিয়েছে তাহলে কি তারজন্য ভাল করেনি? ইতালি প্রবাসী মো: শরিফুল ইসলাম অপরাধ বিচিত্রাকে বলুন শাহজাদী তাহমিনা টাকা খেয়ে ও আমার কাজ করে দেয়নি। যখন আমি আমার ক্ষমতা দিয়ে এসিল্যান্ডের নিকট যাই তখন আমার কাজটা হয়। কিন্তু তাহমিনা আমার নিকট লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করেছিলেন।

শাহজাদী তাহমিনার এই কার্যক্রম শুধু শিদলাই ইউনিয়নেই নয়, পুরো ব্রাহ্মণ পাড়া সহ অন্যান্য এলাকা থেকেও ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি পদে থাকা এমন কর্মকর্তা যদি অনিয়মের পথ ধরে চলে, তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও জনবিশ্বাসের ক্ষতি হবে। এ বিষয় অপরাধ বিচিত্রা প্রতিনিধি শিদলাই ইউনিয়ন ভুমি অফিসে গেলে শাহজাদী তাহমিনা প্রতিনিধির কোর্টের পকেটে গোপনে টাকা ডুকিয়ে দেন প্রতিনিধি টের পাওয়া মাত্র টাকা ফেরত দেন যার ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের হাতে রয়েছে।

শুধু তাই নয় শাহজাদী তাহমিনা অপরাধ বিচিত্রা’র প্রতিনিধিকে প্রস্তাব করে বলেন ভাই লাড়ুচো মৌজায় ১এর খতিয়ান অন্তর ভুক্ত জমি একটা খারিজের আবেদন করলে এসিল্যান্ড স্যার বাতিল করে দেয় কিন্তু আপনি সাংবাদিক স্যারকে বললে জমি খারিজটি করে দিবে। বিনিময়ে আপনাকে ১ লক্ষ টাকা দিব, আর আপনি এসিল্যান্ড স্যার এই কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। টাকা নিয়ে কাজ করে দেয় না সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করিলে তিনি বলেন রুহুল আমিন নামে একজন স্যারের পিএস সে বলেছে ৫ লক্ষ টাকা নেওয়া যাবে এই বলে তিনবার আবেদনটি বাতিল করে দেন।

প্রমাণ হিসেবে ওনার অডিও রেকর্ড সংগ্রহ রয়েছে। এ বিষয় জানতে বিএনপি ইউনিয়ন সভাপতি মো: বায়েজিদ হোসেন রানা অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন এ বিষয় আমি একদিন অফিসে গিয়ে ওনাকে বুঝাতে চেষ্টা করেছি কিন্তু না সে কারও কথা তোয়াক্কা করে সে নিজেই ঘুষের রাজত্ব কায়েম করছে।সে টাকা ছাড়া আর কিছু বুঝে না, তিনি আরো বলেন আমাদের স্যারকে প্রতি ফাইলে ২০০০ টাকা ও অন্যান্য খরচ ভাবত ১৫০০ টাকা এবং এই যে ডিসেম্বর মাসে আমাদের অডিট চলে এসেছে কম করে হলে ও ১লক্ষ টাকা দিতে হয় আমি কি করব। তার পক্ষ নিয়ে কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক অপরাধ বিচিত্রা প্রতিনিধিকে তার মুটোফোনে বলেন শাহজাদী তাহমিনা নায়েব আমার ফুফু বিষয়টি যেন সেক্রীফাইজ করা হয়। এবং প্রতিনিধিকে কুমিল্লায় চায়ের দাওয়াত করা হয়।

এ বিষয় জানতে শাহজাদী তাহমিনার মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি বলে আপনি আমার ভাই আপনি এই নিউজ করিয়েন না আর ১ বছর আমার চাকরি আছে। আর আপনি কবে বাড়ি আসবেন আসলে একটা চা খাবেন। পাঠক আপনারা বলুন তিনি কেন সংবাদ প্রকাশ করতে নিষেধ করেন ? আবার কেন রহস্য জনক ভাবে চায়ের আপ্যায়ন করবেন?

এ বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন আমি এ বিষয় একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমার উপরে মহলে রিপোর্ট প্রদান করেছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button