অন্যান্যচট্টগ্রামচট্টগ্রাম বিভাগদেশ

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘উইনটার কার্নিভাল অ্যান্ড পৌষ পার্বণ’শিক্ষার পরিপূর্ণতায় প্রয়োজন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ: মেয়র ডাক্তার শাহাদাত

এম এ মান্নান : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের জন্য পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষাঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্য দৃঢ় করে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির দামপাড়াস্থ ভবন প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ‘উইনটার কার্নিভাল অ্যান্ড পৌষ পার্বণ ২.০’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।  

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, স্থাপত্য বিভাগ, গণিত বিভাগ ও ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

এতে উদ্বোধক ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির এবং প্রক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মার্কেটিং ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর সুলতানা রাজিয়া চৌধুরী। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক নাঈমা নাজনিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যে-ষড়ঋতুকে আমরা ভুলতে বসেছি, সেই ষড়ঋতুর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঋতু হলো শীত। এই শীত ঋতুর পৌষ মাসে আজকে যে-অনুষ্ঠান হচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পড়ালেখায় যে-একঘেয়েমি থাকে, এ ধরনের অনুষ্ঠান সেই একঘেয়েমি দূর করে এবং পড়ালেখায় দ্বিগুণ উৎসাহ বাড়িয়ে তোলে। তিনি ‘বতমান বিশ্বায়নে বড় চ্যালেঞ্জ পরিবেশ দূষণ’ উল্লেখ করে বলেন, দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের ঋতুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিলম্বিত হচ্ছে বর্ষা। কয়েকটি ঋতুর ছোঁয়া অনুভবও করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে নিরাপদ শহর, ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটিতে পরিণত করার জন্য পরিবেশ দূষণ রোধ করতে হবে। এজন্য কর্ণফুলীকে দূষণমুক্ত করতে হবে, পাহাড়কাটা বন্ধ করতে হবে, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। তিনি পরিবেশ দূষণ রোধে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সহায়তা কামনা করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, আজকের অনুষ্ঠান এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস-এর অংশ। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখার পাশাপাশি কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস-এর উৎকর্ষ সাধিত হবে। শিক্ষার্থীরাই এটা সম্ভব করবে। তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি। তিনি আরও বলেন, পৌষ পার্বণ বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসব আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির বলেন, মাননীয় মেয়র ও মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী বলেন, উইনটার কার্নিভাল ও পৌষ পার্বণ শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি ও সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে এমন আয়োজন ক্যাম্পাসকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা রাজিয়া চৌধুরী উইনটার কার্নিভাল ও পৌষ পার্বণকে নবান্ন উৎসব বলে অভিহিত করে এই উৎসবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।

এই উৎসবে শীতকালীন ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের পিঠাপুলি নিয়ে সাজানো হয় বিভিন্ন স্টল, যা শিক্ষার্থী ও অতিথিদের ব্যাপক আকর্ষণ সৃষ্টি করে। আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান হোসেন মুরাদ, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হারাধন কুমার মহাজন, ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর তাসনিম সুলতানা, ফিন্যান্স ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর রাজীব দত্ত, অ্যাকাউন্টিং ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর ড. আহসান উদ্দিন, এইচআরএম ডিসিপ্লিনের কো-অর্ডিনেটর রহিমা বেগম, সহকারী প্রক্টর ড. তাসনিম উদ্দিন চৌধুরী ও রকিবুল হোছাইন, সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button