ইসলাম ধর্মধর্ম ও জীবন

স্ত্রী জুবাইদা থাকাকালীন কেন দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেননি খলিফা হারুনুর রশিদ?

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক: আব্বাসীয় খিলাফতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক খলিফা হারুনুর রশিদ ও তাঁর বিদুষী স্ত্রী জুবাইদার মধ্যকার একটি চমকপ্রদ ঘটনা ইতিহাসের পাতায় শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ইসলামি শরিয়তে চার বিয়ের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কেন খলিফা দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেননি—তা নিয়ে রয়েছে এক প্রজ্ঞাপূর্ণ ঘটনার অবতারণা।

ঘটনাটি একদিনের রসিকতা থেকে শুরু হয়। খলিফা হারুনুর রশিদ তাঁর স্ত্রী জুবাইদাকে হঠাৎ প্রশ্ন করেন, “আমি কি আরেকটা বিয়ে করতে পারি?”

জুবাইদা বিন্দুমাত্র দেরি না করে দৃঢ়তার সাথে উত্তর দেন, “আমি থাকতে আপনার জন্য অন্য কাউকে বিয়ে করা বৈধ নয়।” খলিফা বিস্মিত হয়ে এর কারণ জানতে চাইলে জুবাইদা তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন এবং বলেন, “আপনি চাইলে বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রাজ্ঞ আলেমের ফতোয়া জানতে পারেন।”

স্ত্রীর কথায় কৌতূহলী হয়ে খলিফা সে যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও ফকিহ সুফিয়ান সাওরি (রহ.)-এর শরণাপন্ন হন। খলিফা তাকে বলেন, “আমার স্ত্রী দাবি করছে যে, তাকে রেখে আমি আর বিয়ে করতে পারব না। অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন: ‘তোমরা পছন্দমতো দুই, তিন বা চার জন নারীকে বিয়ে করো’ (সূরা নিসা: ৩)।”

খলিফার কথা শুনে সুফিয়ান সাওরি (রহ.) শান্তভাবে পাল্টা প্রশ্ন করেন, “হে খলিফা, আপনি কি আয়াতের এর পরের অংশটুকুও পাঠ করেছেন?”

খলিফা তখন আয়াতের পরবর্তী অংশ তেলাওয়াত করেন: ‘কিন্তু যদি ভয় করো যে ইনসাফ করতে পারবে না, তবে একজনই।’

তখন সুফিয়ান সাওরি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে খলিফাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হে খলিফা! আপনার পক্ষে ইনসাফ করা সম্ভব হবে না। কারণ, আপনি জুবাইদার মতো আর কাউকে ভালোবাসতে পারবেন না। আর অন্তরের এই ভালোবাসা সমান না হলে পূর্ণ ইনসাফ কায়েম করা কঠিন।”

একজন সাধারণ প্রজার মতো খলিফার মুখের ওপর এমন সত্য ও স্পষ্ট কথা বলার সাহস দেখে হারুনুর রশিদ মুগ্ধ হন। আলেমের এই দ্বীনি প্রজ্ঞা ও স্পষ্টবাদিতায় খুশি হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সুফিয়ান সাওরিকে দশ হাজার দিরহাম উপহার দিতে চান।

কিন্তু সুফিয়ান সাওরি সেই বিপুল অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি বলেন, “সত্য কথা বলা আলেমের কাজ, আর সত্যের মূল্য দুনিয়ার মুদ্রায় হয় না।”

সূত্র: মুখতাসারু হিলয়াতিল আউলিয়া : ২/৩৭০

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button