অপরাধআইন-শৃঙ্খলাহত্যাকান্ড

মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে স্ত্রীকে পৈশাচিক হত্যা

মুহাম্মদ জুবাইর

৭২ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ঘাতক দুলাল গ্রেফতার।
সন্তানদের সামনে নৃশংস নির্যাতন,হাসপাতালে মৃত্যু
বুড়িচংয়ের আলোচিত হত্যা মামলায় র‌্যাবের চাঞ্চল্যকর সাফল্য,স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা,৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক স্বামী গ্রেফতার,র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থেকে আটক
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সংঘটিত এক নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডে অবশেষে গ্রেফতার হলো ঘাতক স্বামী। স্ত্রীকে পৈশাচিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. দুলালকে (৩৮) মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র‌্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের যৌথ আভিযানিক দল।

এই বর্বর হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শীর্ষ সংবাদ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত লিজা আক্তার (২৮) কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন পূর্ণমতি গ্রামের একজন গৃহবধূ। তার স্বামী মো. দুলাল পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন।নেশার টাকা জোগাড় করাই ছিল তার প্রধান উদ্দেশ্য। এজন্য প্রায়ই স্ত্রী লিজা আক্তার ও তার বাবার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করতেন।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লিজা আক্তারের ওপর চালানো হতো নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,এই দম্পতির সংসারজীবন দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত ছিল।

গত ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইং সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মো. দুলাল তার স্ত্রীর কাছে আবারও মাদক কেনার জন্য টাকা দাবি করে। টাকা না পেলে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে নিজের অবুঝ শিশু সন্তানদের সামনেই দুলাল লিজা আক্তারের ঘাড় ও তলপেটের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে মারধর করে।

নির্যাতনের ভয়াবহ পর্যায়ে অভিযুক্ত দুলাল একটি বাঁশ দিয়ে লিজা আক্তারের গোপনাঙ্গে গুরুতর আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও যন্ত্রণায় লুটিয়ে পড়েন লিজা। তাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে দুলাল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় লিজা আক্তারকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এই নির্মম হত্যার খবরে পুরো বুড়িচং এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার এমন নিষ্ঠুর ঘটনায় সাধারণ মানুষ দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ঘটনায় নিহতের মা খোকি আক্তার বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৭ | তারিখ-০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ধারা-৩০২/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০।
মামলা দায়েরের পরপরই র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম অভিযুক্তকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব নিশ্চিত হয় যে, এজাহারনামীয় প্রধান অভিযুক্ত মো. দুলাল চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটে র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ আভিযানিক দল বাকলিয়া থানাধীন বউ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত দুলাল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে।র‌্যাব জানায়,গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বুড়িচং থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের পক্ষে সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, “নারী নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যত দূরেই পালাক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button