
মুহাম্মদ জুবাইর
খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় চান্দগাঁও-পাঁচলাইশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থনা সভা
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও,মোহরা ও পাঁচলাইশ এলাকার হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে এ আয়োজন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ৭টায় আয়োজিত এ প্রার্থনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক সনজীব নাথ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ।
প্রার্থনা সভায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মনতোষ ধর, অধ্যাপক দেবব্রত দেওয়ানজি,জাসাস নেতা দোলন বড়ুয়া, সাবেক কমিশনার আজম ও খোকন বড়ুয়া।এছাড়াও চান্দগাঁও থানা যুবদলের সংগঠক জীবন বড়ুয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর সংগ্রাম, আপসহীন নেতৃত্ব এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেন।বক্তারা বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন ও সাহসী নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁর নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস পূর্ণতা পায় না।
বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের মুখেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপস করেননি। তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রাম আগামী প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন,“এই প্রার্থনা সভা প্রমাণ করে—বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই একই সমাজের অংশ। সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও মানবিকতাই আমাদের শক্তি।”
তিনি আরও বলেন,আজ সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস ও নৈতিক অবক্ষয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সমাজকে জঞ্জালমুক্ত করতে হলে কোনো একক শক্তি নয় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে, সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এরশাদ উল্লাহ বলেন,আমাদের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়;আমাদের লক্ষ্য দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর,নিরাপদ ও মানবিক সমাজ উপহার দেওয়া।
তিনি বলেন,বিএনপি সবসময় ধর্মীয় সম্প্রীতি,সংখ্যালঘু অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ,জাতি ও গণতন্ত্রের সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়।একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সম্মিলিত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।ধর্মীয় সম্প্রীতির এই দৃশ্য উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
স্থানীয়রা জানান,রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এমন মানবিক ও সম্প্রীতির আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয় এবং ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো জাগায়।



