চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থেকে ৬টি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার যৌথ অভিযানে গ্রেফতার ২ শীর্ষ সন্ত্রাসী

মুহাম্মদ জুবাইর
১৭ জানুয়ারি ২০২৬ (শনিবার) চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার বেঙ্গুরা এলাকা থেকে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি যৌথ বাহিনী।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়,বেঙ্গুরা এলাকার একটি গোপন আস্তানায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র মজুত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রস্তুতি চলছিল।এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি দল পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালায়।অভিযানকালে তল্লাশি চালিয়ে ৪টি শটগান,২টি পিস্তল ম্যাগাজিনসহ, ১৩ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সালাউদ্দিন রুমি (৫১) ও সাইফুল ইসলাম বাপ্পি (৫৭) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গ্রেফতারকৃত দুজনই এলাকার চিহ্নিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী।তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবসা, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকা এবং এলাকায় ভীতি সৃষ্টির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো স্থানীয় অপরাধী চক্রের কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে,এসব অস্ত্র ব্যবহার করে বড় ধরনের নাশকতা কিংবা সহিংস অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা ছিল।
অভিযানের পর উদ্ধারকৃত অস্ত্র,গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয় এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা,সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান,সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌথ বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেঙ্গুরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু সন্দেহজনক লোকের আনাগোনা ছিল।রাতের বেলায় অচেনা লোকজনের যাতায়াত এবং গোপন তৎপরতা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।যৌথ বাহিনীর অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতার হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ জনগণকে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প অথবা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, জনগণের সহযোগিতায়ই সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব।
উল্লেখ্য, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতারের ঘটনা বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অপরাধ দমনে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।বোয়ালখালীর এই অভিযান তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।



