অপরাধআইন-শৃঙ্খলাপ্রশাসন

কেরানীগঞ্জে নাপিতের ব্যবসার আড়ালে মাদক বাণিজ্য করে কোটিপতি!

তৌহিদুর রহমান

ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জিনজিরা নিউ গুলশান সিনেমা হলের পাশে এক ব্যক্তি নাপিতের কাজের আড়ালে মাদক ব্যবসা করে শত কোটি টাকার মালিক বনে যাবার অভিযোগ পাওয়া গেছে।তথ‍্যানুসন্ধানে জানা গেছে, তার নাম দিলীপ চন্দ্র শীল। সে পটুয়াখালীর বাউফল থানার শিংকাঠি গ্রামের স্বর্গীয় হেমন্ত চন্দ্র শিলের পুত্র।

প্রাপ্ত তথ‍্যে জানা যায়, দিলীপ ১৯৯৮ সালে ৭ লাখ টাকা দেনা হয়ে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে আসেন। এরপর জিনজিরার একটি সেলুনে নরসুন্দর (নাপিত) এর কাজ শুরু করেন।ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে পরিচিত হয়ে একসময়ে গাঁজা, বাংলা মদ, ইয়াবা ও ফেনসিডিলের ব্যবসায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। তারপর থেকে দিলীপের আর পিছনে তাকাতে হয়নি। স্থানীয় সুত্র জানায়, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর আগানগর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগে যোগ দেন দিলীপ।

এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল, মিটিং ও জনসভায় লোক সরবরাহ করে স্বল্প সময়ে স্থানীয় নেতাদের নজরে আসেন। একই সাথে তার চলতে থাকে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। সুত্র জানায়, বর্তমান তার মালিকানায় রয়েছে,বিশাল আইসক্রিম তৈরির কারখানা, ১৭০ কক্ষ বিশিষ্ট একটি এবং অপরটি ৩০ কক্ষ বিশিষ্ট ব্যাচেলর বোডিং। এই দুইটি বোডিংয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ লোক নিয়মিত ভাড়া থাকে। নিজ এলাকা বাউফল ও বাহেরচরে কিনেছেন বিপুল সম্পত্তি। এছাড়া কেরানীগঞ্জে কিনেছেন ২ টি মুল‍্যবান প্লট।

দিলীপ বৈধ ব্যবসার পাশাপাশি মাদকের ব্যবসা করে কামিয়াছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। এভাবে সে নামে- বেনামে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। নিজের গ্রামে বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি। একাধিক সুত্রের দাবি, দিলীপ কয়েক বছর পূর্বে তার গ্রামের ও বাহেরচরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সম্পদ গড়েছেন। আওয়ামী লীগের মিছিল মিটিং ও জনসভায় বিপুল পরিমাণ লোক সরবরাহ করায় রানীগঞ্জের সব নেতারাই তাকে বেশ কদর করেন। সুত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবার পর অনেকদিন ধরে আওয়ামী সরকারের সক্রিয় সৈনিক এই দিলীপকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

কয়েক মাস ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মোটা টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে এসেছে। বর্তমানে তার নাপিতের কর্ম না থাকলেও কালো টাকার জোর আর দলীয় প্রভাবে এখনো সে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ সেলুন ব্যবসায়ী সমিতির সক্রিয় সভাপতি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে দিলীপের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি অপরাধ বিচিত্রা’র কাছে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে ঢাকায় এসেছি। কঠোর পরিশ্রম করে এসব সম্পদ করেছি, আমার বিষয়ে আরো খোঁজখবর নিয়ে নিউজ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button