আইন-শৃঙ্খলাপ্রশাসন

শহরকে সুন্দর রাখতে খালের পাড়ে ও যত্রতত্র ময়লা না ফেলার আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে খালের পাড়ে কিংবা যত্রতত্র ময়লা না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নগরবাসীর অসচেতনতা ও দায়িত্বহীন আচরণের কারণেই নগরীর পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতার মতো ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

রোববার নগরীর রসুলবাগ আবাসিক এলাকার সংলগ্ন একটি খালপাড়ে উন্মুক্তভাবে ময়লা রাখার স্থান উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন মেয়র। এ সময় তিনি খালপাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ, অবৈধ ডাম্পিং পয়েন্ট এবং পরিবেশ দূষণের চিত্র প্রত্যক্ষ করেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খালের পাড়ে যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে নাগরিক দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায় এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলার কারণে শুধু জলাবদ্ধতাই নয়, মশা-মাছি ও রোগজীবাণুর বিস্তার ঘটে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

মেয়র বলেন,চট্টগ্রাম একটি বাণিজ্যিক রাজধানী ও পর্যটন নগরী। এই শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে এককভাবে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি।

ডা. শাহাদাত হোসেন নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নির্ধারিত সময় ও স্থানে ময়লা ফেললে নগর পরিচ্ছন্ন রাখা অনেক সহজ হবে। কিন্তু কেউ যদি আইন অমান্য করে খালের পাড়ে বা খোলা জায়গায় ময়লা ফেলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান,নগরীর খালগুলো রক্ষায় চসিক নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে এবং অবৈধ ময়লার ডাম্পিং পয়েন্ট চিহ্নিত করে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যার কথা শোনেন। এলাকাবাসী খাল পরিষ্কার ও নিয়মিত তদারকির জন্য সিটি কর্পোরেশনের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। মেয়র তাদের আশ্বস্ত করে বলেন,নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।

চসিক সূত্র জানায়, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন, পরিষ্কার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ না হলে এসব উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। এ কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা,পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর প্রতিনিধিরা। তারা মেয়রের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়রের এই আহ্বান সময়োপযোগী। নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে পারলে চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button