গাইবান্ধায় জনতার হাতে ৩ ডাকাত পাকড়াও

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিন ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সদর উপজেলার তুলসীঘাট পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন কাশদহ এলাকার একটি ইটভাটার পাশের পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন-গাইবান্ধা সদর উপজেলার মৃত ভুষ্টু মিয়ার ছেলে মোঃ নাজমুল হক, সাদুল্লাপুর উপজেলার আসাদুল ব্যাপারীর ছেলে বাপ্পি ব্যাপারী এবং পলাশবাড়ী উপজেলার গাবুর আলীর ছেলে এরশাদ মিয়া।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে মুরারীপুর এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি পিকনিক শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কাশদহ প্রথম ব্রিজের পশ্চিম পার্শে পৌছলে তারা ৬-৭ জন ব্যক্তিকে মুখে মাস্ক ও মাফলার পেঁচানো অবস্থা দেখে সন্দেহজনকভাবে বসে থাকতে দেখেন।
তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হল আরোহীরা দ্রুত সামনে এগিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের গ্রামের শতাধিক মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ডাকাতদলকে ঘেরাও করে ফেলে। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে ৩জনকে মোটরসাইকেল ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে উত্তেজিত জনতা।
পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণপিটুনি দিয়ে পার্শ্ববর্তী এক কাঠ ব্যবসায়ীর দোকানে আটকে রাখে। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জনরোষ থেকে আটককৃতদের উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
আটককৃতদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পুলিশ রাতেই তাদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে।
পুলিশ জানায়, আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। তবে তাদের সাথে থাকা আরও ৩-৪ জন সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



