অপরাধআইন-শৃঙ্খলাপ্রশাসন

বায়েজিদে পুলিশের ড্রাইভার পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে রাতারাতি কোটিপতি টুকু

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বায়েজিদ বোস্তামী জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পুলিশের একজন সাবেক ড্রাইভার থেকে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে ওঠা টুকু বড়ুয়ার রহস্যজনক সম্পদের তথ্য বেরিয়ে এসেছে অনুসন্ধানে।রাঙ্গুনিয়া উপজেলার এক গ্রাম থেকে উঠে আসা টুকু বড়ুয়া একসময় বায়েজিদ থানা পুলিশের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

একাধিক সূত্র জানায়,টুকু নিজের নাম পর্যন্ত ঠিকভাবে লিখতে পারতেন না।অথচ বর্তমানে তার নামে ও দখলে রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুলিশের পোশাক পরে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন তিনি।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান (ছদ্মনাম) বলেন,টুকু ছিল একজন সাধারণ ড্রাইভার।সে রাতে বায়েজিদ থানা পুলিশের গাড়ি চালাতো।কিন্তু তখন থেকেই তার ভাগ্য বদলাতে শুরু করে।এখন তার নিজস্ব দুইটা বিল্ডিং, প্রাইভেট কার, পিকআপ,মাইক্রোবাস আছে। এমনকি বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে বিশাল আকৃতির একটা পাহাড়ও তার দখলে।

আরিফুর আরও অভিযোগ করেন,টুকু পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে হুমকি দিতো।ফোন করে হয়রানি করতো,না মানলে পুলিশ দিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতো।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,গাছ চুরির অভিযোগে একবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন টুকু বড়ুয়া।তবে কৌশলে জামিন নিয়ে আবার এলাকায় ফিরে আসেন।এরপর আরও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি।

জঙ্গল সলিমপুরের আরেক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,এক সময় টুকুর জন্য আমরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পেতাম।সে ছিল এলাকার ভয়ংকর একজন ব্যক্তি।তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো ছিল না। আলিনগর তৃণমূল বায়েজিদের সন্ত্রাসীদের সাথে আছে তার ভালো সখ্যতা

স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, টুকুর বর্তমানে সম্পদের মধ্যে রয়েছে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি বহুতল ভবন একটি প্রাইভেট কার,একটি পিকআপ ভ্যান,একটি মাইক্রোবাস,বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন বিশাল পাহাড়ি জমি।

এ বিষয়ে টুকু বড়ুয়ার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি একসময় পুলিশের সিভিল টিমের গাড়ি চালাতাম। অনেকেই আমাকে চেনে। এখন আমার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। আমি ওখানে থাকি না, সেখানে যেতেও পারি না। ছিন্নমূল এলাকায় গেলে আমাকে ইয়াসিন এর লোকেরা দৌড়ানি দেয়।

তবে তার বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একজন সামান্য ড্রাইভারের এভাবে কোটিপতি হয়ে ওঠা স্বাভাবিক নয়।বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশ সদর দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন।না হলে পুলিশের নাম ব্যবহার করে অপরাধীদের এ ধরনের উত্থান ভবিষ্যতে আরও ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এই বিষয়ে জানতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জাহিদুল কবির বলেন, টুকু বড়ুয়া নামের কাউকে আমি চিনি না তবে তার নামে থানায় মামলা আছে কিনা দেখে জানাবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button