অন্যান্য

অদৃশ্য শক্তির খপ্পরে’ টিভি চ্যানেল: হারিয়েছে নিরপেক্ষতা, আস্থা সংকটে গণমাধ্যম

অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় বর্তমানে এক অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একসময়ের দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যমগুলো এখন যেন কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো আজ রাজনীতির হাতিয়ার এবং নির্দিষ্ট দলের প্রচারযন্ত্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

রাজনীতির শিয়রে সংবাদ মাধ্যম তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসার পরবর্তী সময় থেকে টিভি চ্যানেলগুলোর আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন আচরণবিধি ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচারের নীতিনৈলতিকতা ছাপিয়ে চ্যানেলগুলো এখন প্রকাশ্যেই দলীয় পক্ষপাতে মত্ত। বিস্ময়কর বিষয় হলো, নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। নিউজ রুমগুলোতে সাংবাদিকতার বদলে যেন রাজনীতির এক অদৃশ্য ও হাস্যকর নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে, যেখানে জনগণের দাবির কোনো প্রতিফলন নেই।

সংবাদের নামে দলীয় প্রচারণা বর্তমান সময়ের টিভি সংবাদগুলোকে ‘মলিন সিনেমা’র সাথে তুলনা করা চলে। চ্যানেলগুলোতে চোখ রাখলেই সাধারণ দর্শক সহজে অনুধাবন করতে পারেন কোনটি কোন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। সংবাদ সম্প্রচারের মূল উদ্দেশ্য—জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার—আজ উপেক্ষিত। প্রকৃত সাংবাদিকতার বদলে চ্যানেলগুলো দলীয় সমর্থকদের তুষ্ট করার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য চরম অবমাননাকর।

জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও টিভি বিমুখতা একপেশে ও নাটকীয় সংবাদের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম বিরক্তি দানা বেঁধেছে। অনেকেই টিভি সংবাদের ওপর আস্থা হারিয়ে সেট বন্ধ করে রাখছেন। সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্যের খোঁজে মানুষ এখন মূলধারার গণমাধ্যম ছেড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন পোর্টালের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন। যদিও সেখানেও রাজনৈতিক নজরদারির শঙ্কা রয়েছে, তবুও টিভির ‘মঞ্চায়িত খবর’ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে জনগণ।

উত্তরণের পথ: প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিকতা এই সংকটময় মুহূর্তে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হলো ‘প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিকতা’। এমন এক সাংবাদিকতা চর্চা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের কথা বলবে এবং দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে।

চ্যানেলগুলোর বর্তমান ভূমিকা নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলা যায়, যদি এখনই তারা তাদের দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক গভীর অন্ধকার। রাজনৈতিক চাপের বাইরে এসে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানোই এখন টিভি চ্যানেলগুলোর জন্য অস্তিত্ব রক্ষার মূল চ্যালেঞ্জ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button