
আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধাকে পরিকল্পিতভাবে কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হওয়া চিনিকলসহ কৃষিনির্ভর শিল্পগুলো পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস. এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গাইবান্ধা দেশের খাদ্য ও পুষ্টির বড় অংশের জোগান দিলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হয়েছে। আগামী দিনে গাইবান্ধাসহ উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্য রয়েছে জামায়াতের।
জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে পাঁচ বছর বয়সি শিশু এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি শিশু জন্মের পরপরই তিনটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি— বাঁচার অধিকার, সুস্বাস্থ্য এবং শিক্ষার অধিকার। এই তিনটি উপাদানে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির পথে যাবে না।
তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মা-বোনেরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি থাকবে না। ফুটপাতের ভ্যান থেকে চাঁদা নেওয়ার সংস্কৃতি লজ্জাজনক। আমরা চাঁদা নেব না এবং কোনো চাঁদাবাজকে টাকা দেবও না।
উন্নয়নের ভারসাম্য নিয়ে তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের স্লোগান থাকলেও বাস্তবে সমতা ছিল না। ভবিষ্যতে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নেওয়া হবে।
প্রধান নদ-নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তার মতে, এটি এই অঞ্চলের জীবন ও অর্থনীতির জন্য বড় সংকট।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় নেতা-কর্মীদের বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ ত্যাগ ও পরিশ্রমের আহ্বান জানানো হয়।



