
আব্দুল মতিন মুন্সী জেলা
ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা–বোয়ালমারী–মধুখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলন-এর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
সমর্থন ঘোষণার সভা
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে আলফাডাঙ্গা হাসপাতাল রোডে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির একাংশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় এ সমর্থন ঘোষণা করা হয়। সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা তার নির্বাচনী প্রতীক ‘জাহাজ’-এর পক্ষে মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভায় দোলন আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, প্রচারণা কৌশল এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
যেসব নেতা উপস্থিত ছিলেন
সমর্থন ঘোষণার সভায় উপস্থিত ছিলেন—
উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি খোশবুর রহমান খোকন,
পৌর বিএনপির সহসভাপতি রেজাউল করিম রেজা,
পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরব আলী,
পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি কাইয়ুম শিকদার,
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মান্নান,
পাচুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাজান সরদার,
এছাড়া সিরাজুল ইসলাম সোজাসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।
কেন এই অবস্থান?
উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি খোশবুর রহমান খোকন বলেন, দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো কার্যকর সমন্বয় করা হয়নি।
তার বক্তব্য,
“আমরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা করেই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তি স্বার্থে নয়; বরং তৃণমূল কর্মীদের মতামতের প্রতিফলন।
দলীয় প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বিষয়টিকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন,
“যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে দলের বিরোধিতা করছে। বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির অধিকাংশ তৃণমূল নেতাকর্মী দলীয় সিদ্ধান্তের পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ আছেন।
নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দলীয় অভ্যন্তরীণ এ ধরনের বিভক্তি ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান পরিবর্তন হলে প্রচার-প্রচারণা ও ভোট ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে অনেকে মনে করছেন, কেন্দ্রীয় দলের অবস্থান ও পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত এই সমর্থনের বাস্তব প্রভাব নির্ধারণ করবে।
দলীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এলো। দলীয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় একটি অংশের প্রকাশ্য বিরোধিতা ভবিষ্যতে আরও বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ফরিদপুর-১ আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।



