নির্বাচনরাজনীতি

চট্টগ্রামে ধানের শীষের জোয়ার সব আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত:আমীর খসরু

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রাম জুড়ে ধানের শীষের জোয়ার তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন,আসন্ন নির্বাচনে চট্টগ্রামের সব আসনেই বিএনপি জয়ী হবে। তার মতে,গণতন্ত্রের টর্চ বেয়ারার তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে,তা রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।

চট্টগ্রাম,২৫ জানুয়ারি ২০২৬ (রোববার): দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির শক্তিশালী উপস্থিতি ও বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো দলের বিভাগীয় নির্বাচনি সমাবেশ।নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে রোববার দুপুরে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম আজ জেগে উঠেছে। চট্টগ্রামের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। ধানের শীষের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, এই জোয়ারে চট্টগ্রামের যতগুলো আসন আছে, ইনশাল্লাহ আমরা সবগুলোতেই জয়ী হব।

তিনি বিএনপি এবং তারেক রহমানকে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন,বিএনপি আর গণতন্ত্র মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ।শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাকশাল ভেঙে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আন্দোলন করে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন।আর সেই গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন জনাব তারেক রহমান।
আমীর খসরু বলেন,তারেক রহমানের নেতৃত্বেই সমস্ত জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছে। আজ তিনি গণতন্ত্রের মশাল হাতে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি নতুন পথে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন,আমরা শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্রের কথা বলি না। বিএনপির আরেকটি বড় স্লোগান হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্র। যেমন করে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিয়ে তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করে,ঠিক তেমনি আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ অর্থনীতিতেও অংশীদার হবে।

অর্থনীতির গণতন্ত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন,এই দেশের উন্নয়ন শুধু কয়েকজনের জন্য নয়।এই উন্নয়নের সুফল যাবে কৃষক, শ্রমিক, যুবক, তরুণ, পেশাজীবী, নারী-পুরুষ সবার ঘরে ঘরে।বিএনপি সরকার গঠন করলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবাইকে যুক্ত করা হবে।

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,অনেকে শুধু বক্তৃতায় বাণিজ্যিক রাজধানীর কথা বলে।কিন্তু শুধু বললে হবে না। আমরা এমন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করব, যাতে সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়ার আগেই চট্টগ্রাম বাস্তবে বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত হয়।

তিনি আরও বলেন,চট্টগ্রামকে আমরা শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বড় অর্থনৈতিক হাবে রূপান্তর করব।আমাদের পূর্ব-পশ্চিমে যেসব দেশ রয়েছে, তাদের জন্য চট্টগ্রাম হবে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন,আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ জনাব তারেক রহমান। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে নেতৃত্বের পতাকা পেয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন ‘আই হেভ এ প্ল্যান’।এই দেশের জন্য,এই দেশের মানুষের জন্য তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি লাখো বেকার যুবকের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন,কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান আমূল পরিবর্তন হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন,চট্টগ্রাম শুধু একটি শহর নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র।এই চট্টগ্রামকে ঘিরেই আমরা একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন,বিগত বছরগুলোতে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।কিন্তু মানুষ এখন আর চুপ থাকবে না।এই জনসমাগম প্রমাণ করে দিয়েছে,বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।
তারেক রহমান বলেন,বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম কাজ হবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও থানা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক সমর্থক। দুপুরের আগেই পলোগ্রাউন্ড ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামে বিএনপির এমন বড় সমাবেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এই সমাবেশ শুধু নির্বাচনি প্রচারণা নয়, বরং চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের একটি বড় প্রদর্শনী।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বলেন,চট্টগ্রাম থেকে যে বার্তা গেছে, তা সারাদেশের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। তাদের মতে,ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা আসন্ন নির্বাচনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button