আমিনবাজার ভূমি অফিসে ঘুষের আখড়া নাজির-ক্যাশিয়ার সাজেদুল ও সহযোগীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

মোল্লা নাসিরউদ্দিন
ঢাকার সাভার উপজেলার আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে নাজির কাম-ক্যাশিয়ার মো. সাজেদুল ইসলাম ও তার সহযোগী ফরহাদ–এর বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. হানিফ মিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), ঢাকা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, নামজারি, রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে বড় অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবেদন বাতিল, ফাইল আটকে রাখা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে বেনামে অভিযোগ তৈরি করে হয়রানির পরিবেশ সৃষ্টি করেন এবং পরে তা নিষ্পত্তির নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। অভিযোগপত্রে একাধিক নামজারি মামলার নম্বর উল্লেখ করে সেখানে অনিয়মের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও গুরুতর দাবি করা হয় যে,
মো. সাজেদুল ইসলাম পূর্বে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং তার পদবি ছিল এএসআই। বিভিন্ন অভিযানে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য নিজে সেবন ও বাইরে বিক্রির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং চাকরি হারান।
অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে তিনি তার মামার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে আমিনবাজার ভূমি অফিসে এই পদে নিয়োগ পান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাজেদুল ইসলাম নিজে মাদকাসক্ত এবং সাভার, আলমনগর ও আমিনবাজার এলাকায় একটি মাদক সেবী চক্রকে নিয়মিত মাদক সরবরাহ করেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।
এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তার ডোপ টেস্ট করা জরুরি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগে বলা হয়, সাজেদুল ইসলাম ও তার পক্ষ থেকে অভিযোগকারীকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগকারীর ভাষ্যমতে,
তাকে বলা হয়েছে “তার স্ত্রী পুলিশে চাকরি করেন এবং র্যাব-১০ এ কর্মরত রয়েছেন, চাইলে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে।”
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তবে সেগুলোর যথাযথ তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



