অপরাধঢাকা বিভাগদুর্নীতি

বিতর্কের মধ্যেই এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হলেন গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথ: ক্ষোভ সাধারণ কর্মকর্তাদের মাঝে

স্টাফ রিপোর্টার: নানা জল্পনা-কল্পনা ও অভ্যন্তরীণ তীব্র ক্ষোভের মধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথ। জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুযায়ী তালিকার শীর্ষে থাকলেও তার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ঘনিষ্ঠ দোসর’ ও ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী’ হিসেবে কাজ করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

সদ্য বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী মো. আলি আখতার হোসেন গত ১৭ অক্টোবর অবসর-পূর্ব ছুটিতে (পিআরএল) গেলে পদটি শূন্য হয়। এরপরই এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি দখলে নিতে শুরু হয় নানামুখী তদবির ও লবিং।

জ্যেষ্ঠতা বনাম রাজনৈতিক পরিচয়

এলজিইডির জ্যেষ্ঠতার তালিকায় গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথ ১ নম্বরে ছিলেন। তালিকার পরবর্তী চারজন ছিলেন যথাক্রমে শেখ মুজাক্কা জাহের, কে এম জুলফিকার আলী, এনামুল হক ও আব্দুর রশিদ মিয়া।

সাধারণত জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন না করার রীতি থাকলেও, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা ছিল—বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ও দলীয় তকমাযুক্ত কাউকে এই পদে বসানো হবে না। বিশেষ করে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শেখ মুজাক্কা জাহেরের বিরুদ্ধেও একই ধরণের অভিযোগ থাকায়, তালিকার নিচের দিক থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার গুঞ্জন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতার ক্রম রক্ষা করতে গিয়ে গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, তার চাকরির মেয়াদ অত্যন্ত স্বল্প। আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ সালেই তার অবসর-পূর্ব ছুটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, তিনি মাত্র ৩ মাস ১০ দিন এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

অভিযোগের পাহাড়

নবনিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ কর্মকর্তারা:

দলীয় পদবি: তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের এলজিইডি শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠতা: অভিযোগ রয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম, শেখ হেলাল, লিটন চৌধুরী ও শাজাহান খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত তিনি তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলীকে নিয়ে প্রায়ই এসব নেতার বাসায় গোপন বৈঠক করতেন।

গোপালগঞ্জে দীর্ঘ পদায়ন: ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি টানা সাড়ে পাঁচ বছর গোপালগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা সরকারি চাকরিতে বিরল।

পটপরিবর্তন পরবর্তী ভূমিকা: ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি আতঙ্কে বেশ কিছুদিন অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ আছে, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও শহীদদের আত্মত্যাগকে স্বীকার করেন না এবং দাপ্তরিক কোনো সভায় এ বিষয়ে কথা বলা এড়িয়ে চলেন।

দপ্তরে অস্থিরতার শঙ্কা

এলজিইডি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথের নিয়োগে দপ্তরের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারেন। জানা গেছে, তিনি ইতিমধ্যেই দলীয় মতাদর্শের কর্মকর্তাদের নিয়ে গোপন যোগাযোগ ও সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, “একজন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার (কানে কম শোনা) শিকার এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রধান প্রকৌশলী করায় এলজিইডির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে অকার্যকর করে তুলতে পারে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button