Uncategorizedঅপরাধঅভিযানআইন-শৃঙ্খলা

সিএমপি’র ডিবি বন্দর বিভাগের অভিযানে পেশাদার মাদক কারবারি গ্রেফতার

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের(সিএমপি)গোয়েন্দা শাখার ডিবি (বন্দর)বিভাগের স্পেশাল টিমের বিশেষ অভিযানে কর্ণফুলী থানা এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার(২৬ জানুয়ারি) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযানে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মিনি কার্ভাডভ্যান জব্দ করা হয়। ডিবি পুলিশের দাবি,গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।

ডিবি (বন্দর) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক ফজলুল কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে স্পেশাল টিম কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জ্যারটেক মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘কর্ণফুলী সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন’এর সামনে পাকা রাস্তায় এই অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানের সময় সন্দেহভাজন একটি মিনি কার্ভাডভ্যান তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে এক হাজার (১,০০০) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।এ সময় গাড়িচালক মোঃ হেকমত আলী (৪৯)কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত হেকমত আলী রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতাল সংলগ্ন রাঙ্গাপানি এলাকার বাসিন্দা।তার পিতা মৃত সাহেদ আলী,মাতা আমেনা খাতুন এবং স্ত্রী সাফিয়া বেগম। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়।উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল বলেও পুলিশের দাবি।

এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ (১) ধারার সারণি ১০(ক)/৩৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি কর্ণফুলী থানার মামলা নম্বর-৪৩, তারিখ-২৬ জানুয়ারি ২০২৬। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়,হেকমত আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।২০২২ সালে ঢাকা রেলওয়ে থানায় এবং ২০২৫ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।এসব মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ডিবি (বন্দর)বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক ও কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোকে ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত মাদক পাচারের চেষ্টা করছে।এসব চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।নগরী ও বন্দর এলাকায় মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিএমপি সূত্র আরও জানায়,মাদকবিরোধী অভিযানে জনসাধারণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্র সম্পর্কে যে কোনো তথ্য গোপন রাখার শর্তে পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button