নির্বাচনরাজনীতি

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রশ্নে জামায়াত-এনসিপির সিদ্ধান্তহীনতা ‘দুর্নীতির অংশীদারত্ব

অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

আসন্ন নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) নীরব ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন অধ্যাপক এম এ বার্ণিক। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই অবৈধ প্রার্থীদের মেনে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কার্যত দুর্নীতির অংশীদার হওয়ার শামিল।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে অধ্যাপক বার্ণিক এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন।

অবৈধ প্রার্থীদের পরিসংখ্যান ও কমিশনের ভূমিকা বিবৃতিতে অধ্যাপক বার্ণিক জামায়াতে ইসলামীর আমিতে ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, বিএনপির অন্তত ৩৯ জন প্রার্থী ঋণখেলাপি এবং ২৫ জন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিক। প্রচলিত নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ অযোগ্য ও বেআইনি।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের চাপের মুখে নতি স্বীকার করেছে। আইনের তোয়াক্কা না করে কমিশন এসব বিতর্কিত প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনি ফয়সালা নিষ্পত্তি না করেই তার মনোনয়ন বৈধ করার বিষয়টিকে তিনি নির্বাচন কমিশনের ‘চরম ব্যর্থতা’ এবং ‘রাজনৈতিক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা অধ্যাপক বার্ণিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকরা নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসেন, তবে রাষ্ট্র চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর ফলে অর্থ পাচারকারীরা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রবেশ করবে এবং গণতন্ত্র জনগণের কাছে হাস্যকর বস্তুতে পরিণত হবে। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি নির্বাচনের প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন।”

জামায়াত ও এনসিপির প্রতি নৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবৃতিতে জামায়াত ও এনসিপির প্রতি নৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়। অধ্যাপক বার্ণিক বলেন, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যদি এই দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয় এবং কমিশনের পক্ষপাতের প্রতিবাদ না করে, তবে তা হবে দুর্নীতিবাজদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা।

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়, এটি এক ধরনের অবস্থান। এই পরিস্থিতিতে জামায়াত ও এনসিপি যদি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার নৈতিক অধিকার হারাবে।”

সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই বিবৃতিতে শেষে অধ্যাপক এম এ বার্ণিক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, জামায়াত ও এনসিপির সামনে এখন একটাই প্রশ্ন—তারা কি আইনের পক্ষে থাকবে, নাকি দুর্নীতির পক্ষে? ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণাই এখন নৈতিকভাবে সঠিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “এর ব্যত্যয় ঘটলে ইতিহাস তাদেরকেও দুর্নীতিবাজদের নীরব সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করবে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button