অপরাধঅভিযানআইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রাম

মধ্যরাতে চট্টগ্রাম নগরে চোর ধরার ‘থ্রিলার অভিযান’ কোতোয়ালির অভিজান গ্রেফতার ৪

মুহাম্মদ জুবাইর

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান, নগরজুড়ে সক্রিয় চোর চক্রের গুরুত্বপূর্ণ চার সদস্য আটক

চট্টগ্রাম নগরীতে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে চোরাইকৃত নগদ দুই লাখ টাকা উদ্ধারসহ চোর চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং একাধিক ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এহেসান মাহাবুবের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মাধ্যমে কোতোয়ালি থানার মামলা নম্বর–৪৮ (তারিখ: ২৬/০১/২০২৬), পেনাল কোডের ৩৮১/৪১১ ধারার এজাহারনামীয় চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়,চুরির ঘটনার পরপরই চোর চক্রের গতিবিধি নজরদারিতে আনা হয়।তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে চোর চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় চোরাইকৃত নগদ দুই লাখ টাকা, যা সম্প্রতি সংঘটিত একটি চুরির ঘটনায় খোয়া গিয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন ইকবাল হোসেন (৩৬)—নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি পাহাড়তলী থানাধীন বারো কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করছিলেন।
দেলোয়ার হোসেন বাবলু (৩২)চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকার বাসিন্দা।
মো. কায়সার (৩৫)চট্টগ্রামের বাশখালী থানার পেরমাশিয়া এলাকার বাসিন্দা, বর্তমানে বাকলিয়া থানাধীন কালামিয়া বাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
করিমুল হাসান (৩২) কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার শাপলাপুর এলাকার বাসিন্দা, বর্তমানে ইপিজেড থানাধীন ফ্রি পোর্ট এলাকায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানায়,গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা নগরীর ব্যস্ত ও আবাসিক এলাকাগুলোকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে চুরি করত। চুরির পর দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে তারা আত্মগোপনে চলে যেত, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলেও দাবি পুলিশের।উদ্ধারকৃত টাকার পাশাপাশি চক্রটির আরও সদস্য ও অন্যান্য চুরির ঘটনায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে,মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চোর চক্রের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীসহ অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলবে।

কোতোয়ালি থানা সূত্র জানায়,নগরীতে চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।জনগণের সহযোগিতা পেলে এ ধরনের অপরাধ দমনে আরও দ্রুত সাফল্য পাওয়া সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button