অপরাধআইন-শৃঙ্খলাপ্রশাসন

আকবর শাহ থানা এলাকায় রাতের আঁধারে সরকারি পাহাড় কাটা,ভূমিদস্যুদের দাপটে অসহায় প্রশাসন

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকার শাপলা আবাসিক ইমাম নগর এলাকায় প্রতিনিয়ত সরকারি পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও কথিত রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে রাতের আঁধারে নির্বিঘ্নে পাহাড় কেটে চলেছে একটি চক্র।দিনের বেলায় বিষয়টি আড়াল করতে কাটা পাহাড়ের স্থানে লতাপাতা ও ঝোপঝাড় দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে,যাতে সহজে বোঝা না যায় পাহাড় কর্তন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়,দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় একাধিক সরকারি পাহাড় ধাপে ধাপে কেটে ফেলা হচ্ছে।গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড় কাটা হলেও দিনের আলোয় এর কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন রাখা হচ্ছে না।ফলে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পাহাড়খেকোরা।

অভিযোগ রয়েছে,ভূমিদস্যুদের সঙ্গে কথিত কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।ক্ষমতার দাপটে তারা পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনকে প্রকাশ্যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে,পাহাড় কাটার বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর আরো দাবি,প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ভূমিদস্যুদের প্রভাবের কাছে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে। ফলে পাহাড় কাটা বন্ধে কোনো দৃশ্যমান অভিযান দেখা যাচ্ছে না।এতে করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা দাবি করেন,সংশ্লিষ্ট পাহাড় নাকি সরকারি নয়,বরং তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। একজন পাহাড় কর্তনকারী বলেন,এই পাহাড় আমাদের বাবার দিনের জায়গা।আমরা নিজের জায়গায় কাজ করছি।”তবে এ দাবির পক্ষে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

পরিবেশবিদদের মতে,এভাবে অবৈধ পাহাড় কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে,বাড়ছে ভূমিধসের আশঙ্কা এবং ঝুঁকির মুখে পড়ছে আশপাশের বসতবাড়ি।দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ,পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর অভিযান এবং জড়িত ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button