ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: বাঞ্ছারামপুরে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকির নির্বাচনী শোডাউন, চাইলেন ‘মাথাল’ মার্কায় ভোট

হাবিব সরকার (স্বাধীন)
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে নতুন রাজনৈতিক চমক হিসেবে প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি ‘মাথাল’ প্রতীকে ভোট চেয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেন।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের লড়াকু এই নেতাকে বাঞ্ছারামপুরের বাতিঘর হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। বিএনপির সমর্থনপুষ্ট হয়ে নির্বাচনী মাঠে নামা জোনায়েদ সাকি তাঁর বক্তব্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই এবং আগামীর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
ষড়যন্ত্র ও ন্যায়ের শাসন প্রসঙ্গে পথসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, “নির্বাচন বানচাল করতে এখনো বহু ফ্যাসিস্ট নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। একটি চক্র মানুষের ভোটের ন্যায্য অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করতে চায়। আপনারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান রায় দিয়েছে—বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং অন্যায়কারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এই দেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদী বা জমিদারিতন্ত্র কায়েম করতে পারবে না। সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
প্রতিহিংসার রাজনীতি ও আগামীর সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাকি বলেন, “ফ্যাসিস্টরা যেভাবে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে, আমরা নতুন বাংলাদেশে তা করব না। জনগণের ঐক্য ও গণতন্ত্র থাকলেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পাবে।”
আগামী দিনের সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আশা রাখি, বাংলাদেশের মানুষ যুগপৎ আন্দোলনের এই লড়াইকে বিজয়ী করবে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং জনকল্যাণে সরকার গঠন করবেন।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থীর সমর্থকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক ডিআইজি আবদুল খালেক (যিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে সাকিকে সমর্থন দিয়েছেন)।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, জিয়া উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসানসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।



