আওয়ামী লীগের দোসর-আনসার ভিডিপির পরিচালক আমিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের-ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর ও “বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি”র খাগড়াছড়ির, জামতলা দিঘিনালা ব্যাটালিয়নের পরিচালক, মোহাম্মদ আমিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়ম ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজ করতে কাউকেই তোয়াক্কা করেননি মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন। পদ-পদবী, চাকরি, নিয়োগ বানিজ্য, পদোন্নতি সহ বদলি বাণিজ্য করে হাতিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। অপরদিকে ঢাকার অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে একাধিক ফ্লাট এবং নিজ এলাকায় জমি ক্রয় করেছেন শত একর, নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়।
খিলগাঁও এলাকায় আমিন উদ্দিনের নামে ৩-টি ফ্লার্ট রয়েছে, যার আনুমান বর্তমান বাজার মূল্য ৩ কোটি টাকা। খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া সি ব্লক
পল্লীমা স্কুলের পাশে একটি ফ্ল্যাট আছে, মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। রিয়াজবাগে ফ্লাট আছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা (প-১৬-১৭), এই ফ্লাটেই আমিন উদ্দিন পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের পাশে, থানা রোড বাতায়ন শপিং কমপ্লেক্সের নিচ তলায় ২টি ব্যবসায়িক দোকান আছে, যাহার বাজার মূল্য আনুমানিক (৬০ লক্ষ) টাকা।
ঢাকা মাওয়া সড়কের পাশে কেরানীগঞ্জে নিজ বাবা এবং ছোট ভাইয়ের নামে জমি ক্রয় করেছেন। পরিচালক আমিন উদ্দিনের এলাকা শরীয়তপুরে নামে- বেনামে অসংখ্য জমি ক্রয় করেন। ভেদেরগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের সাথে প্রায় ১০ কাঠার জমি ক্রয় করেন, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি টাকা।
নারায়ণপুর বাজার পূর্ব পাশে প্রায় ১ কোটি টাকার জমি আছে। বায়াই কান্দি মৌজা নারায়ণপুর ইউনিয়নে জমি আছে, নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমান রয়েছে। গ্রামে নিজের বাড়িতে একটি বিল্ডিং আছে যাহার বাজার মূল্য আনুমান ৪০ লক্ষ টাকা।
আরো কিছু ভুক্তভোগীদের জমি দখল করেন আমিন উদ্দিন, সংক্ষেপে বর্ণনা দেওয়া হল: আমিন উদ্দিনের আত্মীয় মো: সেন্টু মিয়া (৫৫) ৩ কানি জমি ক্ষমতার বলে জোরপূর্বক দখল করেন- যাহার মূল্য আনুমান (২ কোটি) টাকা। মোখলেস বয়াতি (৫৫) ৪০ শতাংশ, মূল্য প্রায় (২০ লক্ষ) টাকা, শরীফ পাইক (৬১) ৪০ শতাংশ, মূল্য প্রায় (২০ লক্ষ) টাকা, কালাই হাওলাদার (৯০) ৪০ শতাংশ, মূল্য প্রায় (২০ লক্ষ) টাকা। সুনু পাইক (৬২) এর ব্যবসায়িক দোকান, আমিন উদ্দিনের ষড়যন্ত্রে ডাকাতি করে দোকান থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লুট করেন অপরদিকে শরিফ হাওলাদার (৭০) এর গরু চুরি করার সহযোগিতা করেন বলে এলাকা সূত্রে জানা যায়।
এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা একজন দিনমজুর কৃষক ছিলেন, অন্যের জমিতে বদলা দিয়ে সংসার চালাতেন। তার পৈত্রিক সম্পত্তি বলতে ভিটাবাড়ি ছাড়া আর কিছু ছিল না, সেই পরিবারের থেকে উঠে আসা আমিন উদ্দিন সরকারী চাকুরীর পাওয়ার পর দুর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন। তাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের বর্তমান অবস্থা দেখলে যে কারো চোখ কপালে উঠবে। তার ভাই বোনদের ঢাকা এবং বিভিন্ন জায়গা সেটেল করে দিয়েছেন, ভাই-বোনদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সরকারি চাকুরির এই অবৈধ অর্থ ব্যয় করেছেন- আনসার ভিডিপির খাগড়াছড়ির জামতলা দিঘিনালা ব্যাটালিয়ন পরিচালক এই আমিন উদ্দিন।
এইসব অঢেল সম্পত্তির বিষয়ে আমিন উদ্দিনের পার্সোনাল মুঠোফোনে (০১৭১২২৫৮৪২২) জানতে চাইলে তিনি প্রথমে সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি whatsapp নাম্বারে ফোন দিলে, দ্বিতীয়বারে তাকে আবারো অবৈধ সম্পদ গড়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে, একটি ফ্লাট আছে বলে স্বীকার করেন আমিন উদ্দিন, তাও নাকি তিনি ব্যাংক থেকে লোন করে ফ্ল্যাটটি ক্রয় করেছেন। তিনি বলেন আমি সম্পদ কিভাবে গড়ব? স্বল্প বেতনে চাকরি করি!
এমন ভাবে তিনি কথা বলতেছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে যে, তিনি ফেরেশতার মতো একজন নিষ্পাপ ব্যক্তি।
অথচ এলাকাবাসী খোত রক্তের আত্মীয় স্বজনরা তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বলে আমাদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে অত্যাচার নির্যাতন করে আসছেন এই আমিন উদ্দিন এবং তার দোসোররা, নিরুপায় হয়ে থানায় আইনি সহায়তা চাইতে থানায় জিডি করতে গেলে তাদের অভিযোগ আমলে নেয় না থানার কর্তৃপক্ষ। থানায় গেলে উল্টো আমিন উদ্দিনের দোসররা বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি প্রাণনাশের ভয়-ভীতি দেখান। এখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলেও আমিন উদ্দিন আনসার ভিডিপির পরিচালকের ক্ষমতার বলে কোথাও গিয়ে সঠিক বিচার পাইনি এলাকাবাসী এবং আত্মীয়-স্বজনরা বলেন।
অপরদিকে আমিন উদ্দিন বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রী সরকারের একজন কর্মকর্তা হওয়া সত্বেও তৎকালীন স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ক্যাডারবাহিনীদের জয়যুক্ত করতে সরকারি গাড়ি এবং পোশাক ব্যবহার করেন। ২০২৪ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমকে শরীয়তপুর-২ আসনে জয়যুক্ত করার জন্য তিনি প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনীয় মাঠে কাজ করেছেন। ভেদরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হুমায়ুন মোল্লাকে ২০২৪ ইং সালের নির্বাচনে জয়যুক্ত করার জন্য নিজে এলাকায় গিয়ে সরকারি পোশাক ও গাড়ি ব্যবহার করে সহযোগিতা করেন তার প্রমাণ এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী সকলেই। এ বিষয়ে সত্যতা জানতে চাইলে আমিন উদ্দিনের পার্সোনাল হোয়াটসঅ্যাপ কলে তিনি স্বীকার করেছেন।
আমিন উদ্দিন ঢাকা হেড অফিসে যখন পোস্টিং ছিলেন, তখনকার ডিজি ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমের ছোট ভাই মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তার ছত্রছায়ায় এই আমিন যেন অঢেল সম্পাদ আর ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যান। তিনি ডিজির পাওয়ারের দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষের জমিজমা দখল করে নেন, তখন তাকে সহযোগিতা করেন সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন মোল্লাহ।
খাগড়াছড়ি আনসার ভিডিপির পরিচালক মোহাম্মাদ আমিন উদ্দিনের সাথে তার দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ বিষয়ে কথা বলার পরের দিন থেকে বিভিন্ন নাম্বার দিয়ে একাধিক সাংবাদিক পরিচয় হোয়াটসঅ্যাপে এবং কন্ট্রাক্ট কলে ফোন দিয়ে বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে নিউজ ছাপা করতে নিষেধ করেন। কতিপয় সাংবাদিক পরিচয় প্রদানকারীরা বলেন, তার পরও যদি আমিন উদ্দিনের দুর্নীতি নিয়ে কোন নিউজ ছাপা হয় তা হলে সম্পাদক সহ রিপোর্টারকে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। উক্ত হুমকির বিষয়ে মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি আনসার ভিডিপির জামতলা দীঘিনালা ব্যাটালিয়ন পরিচালক মোহাম্মদ আমিন উদ্দিনের অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতি বিষয় অনুসন্ধান চলমান আছে- একই সাথে নিউজ বন্ধ করার জন্য হুমকি প্রদানকারি কথিত সাংবাদিক পরিচয় প্রদানকারী, কারা? তাদের পরিচয় সহ আগামী পর্বে বিস্তারিত আসছে। আগামী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকুন।



