অপরাধঅভিযানআইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রামপ্রশাসন

চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী চাপাতি ফারুক গ্রেফতার

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ডিবি দক্ষিণ বিভাগের স্পেশাল টিমের অভিযানে সিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ ফারুক হোসেন ওরফে ইমরান ওরফে চাপাতি ফারুক এবং তার সহযোগী মোঃ সজিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোতোয়ালী থানাধীন আইস ফ্যাক্টরী রোডের বাস্তুহারা কলোনী এলাকা থেকে বুধবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।গ্রেফতারকৃত চাপাতি ফারুক চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা অস্ত্র ডাকাতি দস্যুতা ও মাদক মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

ডিবি দক্ষিণ সূত্র জানায় স্পেশাল টিমের সকল অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।অভিযানে গ্রেফতার আসামি মোঃ ফারুক হোসেন ওরফে ইমরান ওরফে চাপাতি ফারুক বয়স ৩২ পিতা ইয়াকুব আলী মাতা মনোয়ারা বেগম স্থায়ী ঠিকানা মতইন হাজীর বাড়ি কানকীর হাট বাজার থানা সেনবাগ জেলা নোয়াখালী।বর্তমানে তিনি স্টেশন কলোনীর পশ্চিম মাখা এলাকায় আবুল কালামের কোয়ার্টারের ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

তার সহযোগী মোঃ সজিব বয়স ২৭ পিতা মোঃ আজাদ মাতা রেহেনা বেগম স্থায়ী ঠিকানা কালিবাড়ী রোড গুদারাঘাট শাহজাহানের বাড়ি থানা কোতোয়ালী জেলা ময়মনসিংহ।বর্তমানে তিনিও স্টেশন কলোনীর আইস ফ্যাক্টরী রোড এলাকায় ভাড়াঘরে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানায় গ্রেফতারের পর পিসিপিআর যাচাই করে দেখা গেছে চাপাতি ফারুকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা অস্ত্র ডাকাতি দস্যুতা চুরি ও মাদক সংক্রান্ত মোট দশটি মামলা রয়েছে।এসব মামলার মধ্যে একাধিক মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন।দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কোতোয়ালী সদরঘাট এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিলেন।

অন্যদিকে তার সহযোগী মোঃ সজিবের বিরুদ্ধেও পিসিপিআর যাচাইয়ে বৈষম্যবিরোধী মামলা সহ অস্ত্র ডাকাতি চুরি ও মাদক সংক্রান্ত মোট দশটি মামলা পাওয়া গেছে।পুলিশ বলছে এই দুইজন দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনে একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে চাপাতি ফারুক কোতোয়ালী ও সদরঘাট থানা এলাকায় একটি আতঙ্কের নাম।ছিনতাই ডাকাতি দস্যুতা চাঁদাবাজি লুটপাট এমন কোনো অপরাধ নেই যাতে তার নাম জড়িত নয় বলে দাবি এলাকাবাসীর। অভিযোগ রয়েছে প্রতিনিয়ত ইয়াবা সেবনের জন্য তার পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা প্রয়োজন হতো।এই নেশার টাকার জোগান দিতেই তিনি নিয়মিত অপরাধে জড়িয়ে পড়তেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এলাকাবাসী আরও জানায় চাপাতি ফারুকের কথাই ছিল শেষ কথা।কেউ তার নির্দেশ অমান্য করলে তাকে মারধর করা হতো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হতো কিংবা ভয়ভীতি দেখানো হতো।নিরীহ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী এমনকি সাংবাদিকরাও তার নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। তার কারণে বহু পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল।

স্থানীয় সূত্র বলছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানানো হলেও তার প্রভাব ও সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করলেও তাকে ধরা কঠিন হয়ে পড়েছিল।অবশেষে ডিবি দক্ষিণের স্পেশাল টিমের পরিকল্পিত অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান চাপাতি ফারুক শুধু একজন অপরাধী নয় বরং একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছিল।তার গ্রেফতারে কোতোয়ালী সদরঘাট এলাকায় অপরাধের হার কমবে বলে তারা আশাবাদী।পুলিশ আরও জানায় গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সহযোগী ও অপরাধ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
ডিবি সূত্র জানায় আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।পুলিশের আশা রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে যা নগরীর অপরাধ দমনে সহায়ক হবে।

এলাকাবাসী চাপাতি ফারুকের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছে।তারা বলছেন দীর্ঘদিন পর হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে।এখন তারা চান এই চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করা হোক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button