
নির্বাচন সামনে রেখে ভয়াবহ বার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রামে আনোয়ারা উপজেলায় নির্বাচনী রাজনীতির মাঠ এখন কার্যত সন্ত্রাসীদের দখলে এমনই ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত আখতার হোসেন এখন প্রকাশ্যেই বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়। এই ঘটনা পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ, আতঙ্ক ও প্রশ্নের ঝড় তুলেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীর সঙ্গে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের ছেলে সাহওয়াজ জামাল নিজাম সনির ঘনিষ্ঠ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চে একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর এমন প্রকাশ্য উপস্থিতিকে অনেকেই দেখছেন সন্ত্রাসের পুনর্বাসনের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে।

স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, আখতার হোসেন (৪০) চট্টগ্রাম জেলার সরকারী সন্ত্রাসী তালিকায় ৪২ নং তালিকাভুক্ত। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আনোয়ারায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল মাদক অস্ত্রসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আখতার হোসেন (৪০) কে উত্তর বান্দর মহলখান বাজার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাসহ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানায় তার নামে ১০টি মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকায় তিনি শীর্ষ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও সন্ত্রাস-সংক্রান্ত মামলা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে আইনের ঊর্ধ্বে কি সন্ত্রাসীরা। নাকি নির্বাচনের অজুহাতে অপরাধীদের সবকিছু মাফ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম বদনীর ছেলে আখতার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অথচ আজ তিনি বিএনপির ব্যানারে সামনে থেকে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু রাজনৈতিক নৈতিকতার অবক্ষয় নয়, বরং অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার ভয়ংকর নজির। বিএনপির ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা জানান, দলের কিছু সুবিধাভোগী ও তথাকথিত হাইব্রিড নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়েই একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিএনপির সামনের সারিতে জায়গা করে নিচ্ছে। এতে দলের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগকে চরমভাবে অপমান করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমন সন্ত্রাসী যদি বিএনপির প্রশ্রয়ে কিংবা তার মতো লোকজন যদি ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তবে আনোয়ারায় আবারও মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম হতে বাধ্য। এদিকে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী যখন প্রকাশ্যে রাজনৈতিক প্রচারণায় ঘোরাফেরা করে, তখন প্রশাসনের নিরবতা কেবল রহস্যজনক নয় বরং তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই নীরবতা কি রাজনৈতিক চাপের ফল। নাকি আসন্ন নির্বাচনে সহিংসতার নীলনকশা। সব মিলিয়ে আনোয়ারার রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন তীব্রভাবে উচ্চারিত হচ্ছে সন্ত্রাসীরা যদি প্রকাশ্যে রাজনীতির মঞ্চ দখল করে নেয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ কি আর সম্ভব।
এব্যাপারে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন তা তার জানা নেই। তবে কেউ যদি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ দেন, তাহলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এ সময় ৪২ নম্বর তালিকায় মোহাম্মদ আক্তার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় আছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।



