নির্বাচনরাজনীতি

আপসহীন রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া:আমীর খসরু

মুহাম্মদ জুবাইর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউরী আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, মাত্র ১০/১১ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও প্রায় তিন দশক ধরে বেগম খালেদা জিয়া আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে রাজপথে সংগ্রাম করেছেন।কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই আপস করলেও তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো আপসে যাননি। এখানেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।

বিশ্বনেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যেভাবে জীবনের শেষ পর্যন্ত আপসহীন ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাঁর মৃত্যুর পরই মানুষ বুঝতে পেরেছে তিনি কত গভীরভাবে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন,গণতন্ত্রের যে মশাল বেগম খালেদা জিয়া জ্বালিয়ে গেছেন,তা এখন তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত। এই মশাল বহন করাই এখন আমাদের দায়িত্ব। সামনে নির্বাচন থাকলেও গণতন্ত্রের লড়াই এখানেই শেষ নয়; নির্বাচন-পরবর্তী সময় আরও কঠিন হতে পারে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার,ড. সুকোমল বড়ুয়া,এস এম ফজলুল হক,একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক এবং ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন।

গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি ছিলেন দেশের জনগণের নেত্রী। স্বৈরশাসনের নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েও তিনি আপসহীন থেকেছেন।

এম এ মালেক বলেন, ক্ষমতার মোহ, ভয় কিংবা চাপ—কোনো কিছুর কাছেই নীতির প্রশ্নে আপস করেননি বেগম খালেদা জিয়া। তিনি শুধু গণতন্ত্রের কথা বলেননি, নিজেই সেই পথে হেঁটেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী।

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসে অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button