চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ:সিএমপি

মুহাম্মদ জুবাইর
আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে এক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক রাখতে বন্দর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ,মিছিল,মানববন্ধন ও পথসভা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ(সিএমপি)। আজ ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এক মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ,১৯৭৮-এর ২৯ ও ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ এ আদেশ জারি করেন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের একটি “১ক” শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই)।দেশের মোট আমদানি ও রপ্তানির সিংহভাগ কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, শিল্পকারখানার কাঁচামাল এবং আমদানি-রপ্তানিযোগ্য পণ্য পরিবহনে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লং ভেহিকেল ও প্রাইম মুভার বন্দরে চলাচল করে।
এত বিপুল সংখ্যক যানবাহনের চলাচলের কারণে বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু বন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল বা মানববন্ধনের ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়,যা সরাসরি বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত করে।
সিএমপি জানায়,বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সামান্য বিঘ্নও জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জনশৃঙ্খলা,শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা জারি করা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে,বারেক বিল্ডিং মোড়,নিমতলা মোড়,৩ নম্বর জেটি গেইট,কাস্টমস মোড়,সল্টগোলা ক্রসিং,চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা,এইসব এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র,তলোয়ার, বর্শা,বন্দুক,ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য,ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের মিছিল,সভা-সমাবেশ,মানববন্ধন ও পথসভা আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তবে,গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা,মিছিল ও সমাবেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হবে না।
পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,নির্বাচনকালীন সময়কে সামনে রেখে বন্দর এলাকার নিরাপত্তা ও কার্যক্রম সচল রাখা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অযাচিত কর্মসূচির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।



