দুই বোন এবং সৎ মায়ের অত্যচারে অতিষ্ঠ দুই ভাইয়ের ফ্যামিলি, কারাগার থেকে বের হয়ে নিজ বাসায় কারাগারের মত দিন পার করছেন তারা

নূর হোসেন ইমাম (অনলাইন এডমিন) :
বরগুনা পৌর শহরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করে জখম করা এবং ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তার দুই ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জটিল আকার ধারণ করেছে একটি পারিবারিক বিরোধ।
ঘটনাটি ঘটে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মুক্তিযোদ্ধার বাসভবন’-এ। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল বাছেদ বাচ্চু (৭১) বাদী হয়ে বরগুনা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাদীর দুই ছেলে মো. সালাহউদ্দিন ও মো. আবুল কালাম আজাদ, তাদের স্ত্রী এবং সালাহউদ্দিনের মেয়েসহ অন্যান্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। একই সময় তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও এক মেয়েকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা ঘরে থাকা নগদ এক লাখ টাকা এবং প্রায় ২২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যান। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আহতরা বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে অভিযুক্ত পরনা আক্তার দাবি করেন, ঘটনার দিন তারা বরগুনা সদরের গার্মেন্টস পট্টি এলাকায় নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।তিনি আরও বলেন দীর্ঘ দিন যাবত তাদের উপর অমানুষিক অত্যচার করে আসছেন তার দুই ননদ পারভিন এবং জেসমিন।পরনা আক্তার আরও বলেন দেখেন আমার শ্বশুরের তো অনেক গুলো বাসা বরগুনা সদর এর মধ্যে কিন্তু তারা কেন আমরা যেই বাসায় থাকি সেই বাসায় ই এসে আমাদের প্রতিদিন নির্যাতন করবে।
অপরদিকে বাদীর ছোট ছেলে ও স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বাবা একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আসছেন। তার দাবি অনুযায়ী, তার নামে ইতিপূর্বে দায়ের করা ২২টি অভিযোগের কোনোটি তদন্তে সত্যতা পায়নি।যেই মামলায় তারা দুই ভাই কারাগারে ছিলেন সেই ঘটনার দিন আবুল কালাম আজাদ ১১ টার অনেক আগেই বাসা থেকে বের হয়ে নিজ কর্মস্থলে চলে যান। আবুল কালাম আজাদ বলেন আমার স্ত্রী সিনিগ্ধা আমার ও অনেক আগে আমার বাচ্চাদের নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বাবার একাধিক বিবাহ এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এসব বিষয়ে তিনি ও তার ভাই আপত্তি জানানোয় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি এবং ২০১৮ সাল থেকে ই তার বোন পারভিন তার বাবার মাধ্যমে আমার নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে আসছেন।
আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী স্নিগ্ধা ও সালাহউদ্দিনের স্ত্রী পরনা আক্তার অভিযোগ করেন, বাদীর মেয়েরা বিভিন্ন সময় তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। দোকান ভাঙচুর, বাসা থেকে বের করে দেওয়া, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো ঘটনার কথাও তারা গণমাধ্যমকে জানান। এসব ঘটনার কিছু ভিডিও ও অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে ব্রাইট ডিজিটাল সাইন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সাইদুল বলেন, পারভিন একাধিকবার দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী সাইদুল।
এদিকে এসব অভিযোগ এর ব্যাপারে কোন ধরনের মুখ খুলতে চাইছেন না বীর মুক্তিযোদ্ধার দুই মেয়ে পারভিন হোসাইন ও জেসমিন আক্তার। তারা বলেন, সব অভিযোগ একপেশে এবং অনেক তথ্য বিকৃত। পারভিন হোসাইন স্বীকার করেন, একসময় বাবার একটি প্লট বিক্রির টাকা তিনি নিয়েছিলেন, তবে পরে বিভিন্ন সময়ে বাবাকে অর্থ পাঠিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বাবার ব্যক্তিগত জীবন ও সিদ্ধান্তে ভালো-মন্দ দুটোই রয়েছে, সেটি পরিবারের সবাইকে মেনে নিতে হবে। আমার বাবার টাকা আছে তো অনেক নারী ই তার কাছে আসতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক।
বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই বিষয় নিয়ে প্রথম পর্বের অনুসন্ধানী পর্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বাসেদ বাচ্চুর বর্তমান স্ত্রী ফাতেমা সম্পর্কে আমাদের অনুসন্ধান চলমান আছে।



