চট্টগ্রামনির্বাচনরাজনীতি

শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে ঐক্যবদ্ধ চট্টগ্রাম-১০ হেলালীর গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রাম-১০ আসনের ১২ নম্বর সরাই পাড়া ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও প্রচারণা অনুষ্ঠিত
শোষণমুক্ত,বৈষম্যহীন ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লাকে বেছে নিয়েছে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী

চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনের ১২ নম্বর সরাই পাড়া ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে ঝরণা পাড়া, মেট্টেইল্লা পাড়া ও বউবাজার এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী।
দিনের শুরু থেকেই সরাই পাড়া ওয়ার্ডের অলিগলি মুখর হয়ে ওঠে স্লোগান,পোস্টার ও মিছিলের পদচারণায়।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গণসংযোগকালে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় করেন,স্থানীয় দোকানপাট ও বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পথসভায় বক্তব্য রাখেন।এ সময় নারী ভোটার, তরুণ সমাজ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

গণসংযোগকালে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শোষণ,বৈষম্য,দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার।রাষ্ট্রের সম্পদ একটি গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে।সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই জনগণ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন,শোষণমুক্ত,বৈষম্যহীন ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণ আর মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করে না।তারা একটি সৎ, যোগ্য ও আদর্শ নেতৃত্ব চায়।

অধ্যক্ষ হেলালী আরো বলেন,তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা,সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন।তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় ন্যায়নীতি ও আল্লাহভীতির কোনো বিকল্প নেই।যদি রাজনীতিতে সততা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সমাজ থেকে দুর্নীতি,চাঁদাবাজি ও দুঃশাসন দূর করা সম্ভব।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন,এই আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। তরুণ সমাজ, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, রিকশাচালক, দিনমজুরসহ সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে।ইনশাআল্লাহ জনগণের রায় পেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করব।

তিনি বিশেষভাবে তরুণ সমাজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন,দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে।কিন্তু আজকের তরুণরা বেকারত্ব,মাদক ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমি নির্বাচিত হলে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুণদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেব।

গণসংযোগকালে স্থানীয় জনগণ তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা,বিশুদ্ধ পানির সংকট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা,স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়ন এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী মনোযোগ সহকারে স্থানীয়দের কথা শোনেন এবং নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন,আমি এমপি হতে চাই মানুষের সেবা করার জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়।জনগণের সমস্যাই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।

গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, অনেক নেতা আসে, কথা বলে, কিন্তু পরে আর খোঁজ থাকে না।আজকের এই গণসংযোগে আমরা আশা দেখছি। মানুষ এবার সত্যিকার পরিবর্তন চায়।
এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত ও জোটের নেতৃবৃন্দ, ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক, সমাজসেবক,শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

নেতাকর্মীরা জানান,আগামী দিনগুলোতে চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ের পথে এগিয়ে যাবে।
গণসংযোগ শেষে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, আমি বিশ্বাস করি,এই আসনের মানুষ অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।ইনশাআল্লাহ জনগণের শক্তিতেই বিজয় অর্জিত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button