এনসিটি ইজারা সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের

মুহাম্মদ জুবাইর
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের কর্মবিরতিতে বন্দর কার্যক্রম স্থবির
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, চট্টগ্রাম। সংগঠনটি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারীরা। চলমান এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে পেশাজীবী সংগঠনটি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংগঠনটির আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি ও সদস্যসচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, এনসিটির মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থাপনার পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই হঠাৎ বা একতরফাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কোনো ধরনের আলোচনা, অংশীজনদের মতামত গ্রহণ কিংবা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঢাকায় বদলি করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, চলমান আন্দোলনের মধ্যে এ ধরনের বদলি স্পষ্টতই আন্দোলন দমনের কৌশল।তে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠছে এবং সংকট নিরসনের পথ কঠিন হয়ে পড়ছে।
তারা বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা শাস্তিমূলক বদলির মাধ্যমে কোনো যৌক্তিক দাবি দমন করা যায় না। বরং এতে অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতারা অবিলম্বে এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বলেন, এমন দীর্ঘমেয়াদি ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
নেতৃবৃন্দের মতে, অন্তর্বর্তী বা সীমিত বৈধতার সময়ে নেওয়া এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহলের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই ইজারা চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার এবং জাতীয় অর্থনীতির পরিপন্থী।
এদিকে, এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পরিবহন মালিক, চালক, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ মনে করে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই বন্দরের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শ্রমিক-কর্মচারী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা জরুরি।
সংগঠনটির নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দমনমূলক পদক্ষেপ পরিহার করে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে তারা শ্রমিক-কর্মচারীদের যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি দেশবাসীকে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানান।



