
মুহাম্মদ জুবাইর
কলকারখানা অর্থনীতির প্রাণ পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে পরিকল্পিত শিল্পনীতির আহ্বান
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ বলেছেন,দেশের অর্থনীতির প্রাণ বা চালিকা শক্তি হিসেবে কলকারখানা স্থাপন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।শিল্প এলাকা হিসেবে যেকোনো অঞ্চলকে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে গড়ে তোলা না হলে পরিবেশ বিপর্যের সম্মুখীন হয়। পরিকল্পিতভাবে শিল্প তথা কলকারখানা স্থাপন করলে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। সামনের দিনে যদি বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায় সমন্বিত উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব শিল্পনীতির আলোকে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন করা হবে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিরা ইউনিয়নে গণসংযোগকালে আসলাম চৌধুরী বলেন, সীতাকুন্ডের কুমিরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে প্রচুর কলকারখানা ও জাহাজ ভাঙা শিল্পের ইয়ার্ড রয়েছে, যা বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এসব কারখানা এবং নতুন স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশে বিরূপ প্রভাব না ফেলার বিষয়টি সচেতনতার সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে। শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের কল্যাণের জন্য পরিবেশ বান্ধব নীতি অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন,শিল্প উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষা একে অপরের বিপরীত নয় বরং সমন্বিতভাবে এগিয়ে গেলে অর্থনীতি ও প্রকৃতি দুটোই লাভবান হবে। পরিকল্পিত শিল্পনীতি অনুসরণ করে নতুন কলকারখানা স্থাপন করলে স্থানীয় অর্থনীতি জেগে উঠবে, বেকারত্ব কমবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকবে এবং জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষিত হবে।
গণসংযোগে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কাজী মহিউদ্দিন, আনোয়ারুল আযম মুকুল, শামসুদৌহা, নুরুল আজিম সবুজ, সাহাবুদ্দিন, জহির উদ্দিন বাবলু, জানে আলম বাবুল, ইদ্রিছ মনি, ফজলুল করিম চৌধুরী, হারুন উর রশিদ ইব্রাহিম, হেলাল উদ্দিন, আব্দুল মালেক মানিক, আলমগীর মেম্বার, কামরুল ইসলাম, আনিস মাস্টার, রবিউল হক লিটন, পলাশ, মামুন মেম্বার, বেলাল উদ্দিন, আমজাদ হোসেন টিটৃ, ওমর কাইছার, ইব্রাহিম সওদাগর, আবুল হোসেন, মাহবুবুল আলম, হামিদুর রহমান মাস্টার, মোঃ ফারুক, কামাল উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রতন দে, সফি মেম্বার, হায়সাম সিদ্দিকী জনি, ইয়াসিন আরাফাত, তমাল হোসেন, আলমগীর হোসেন, শাহীন এবং মোঃ জাবেদ।
প্রার্থী এরপর ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আসলাম চৌধুরী স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে তিনি শুধু কাজের মাধ্যমে নয়, সচেতন পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব নীতির মাধ্যমে এগিয়ে নেবেন। তিনি বলেন,পরিবেশ বান্ধব শিল্পনীতি অনুসরণ করা ছাড়া স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা চাই শিল্প, শ্রমিক, পরিবেশ ও সাধারণ জনগণ চারপাশের সমন্বিত উন্নয়নে সবাই অংশগ্রহণ করবে।
চট্টগ্রামের এই শিল্পাঞ্চলগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে তিনি গণসংযোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে নতুন কলকারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে বেকারত্ব কমানো, স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণকে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, শিল্পনীতির সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা মিলিয়ে চলা হবে এবং যে কোনো প্রকার দূষণ, অব্যবস্থাপনা বা পরিবেশ-অমানবিক কর্মকাণ্ডকে তিনি কখনো স্বীকৃতি দেবেন না।
প্রার্থী এসময় এলাকার শিক্ষিত যুবক ও উদ্যোক্তাদেরও নতুন শিল্প বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ, সরকারী সংস্থা ও বেসরকারি উদ্যোগগুলো একসাথে কাজ করলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব। তিনি আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চল যেমন কুমিরা,সৈয়দপুর, সীতাকুন্ড ইত্যাদি এলাকা দেশের অর্থনীতির প্রাণ। এসব অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার উন্নয়ন শুধু আঞ্চলিক নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখে। আসলাম চৌধুরীর গণসংযোগে উপস্থিত স্থানীয় নেতা ও জনগণ বিষয়গুলো নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতামত প্রদান করেন এবং প্রার্থীকে সমর্থন জানান।
প্রার্থী এসময় আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলে বেকারত্ব দূরীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগে শিল্পনীতির মাধ্যমে অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি আশ্বস্ত করেন, যে কোনো নতুন কলকারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে।
গণসংযোগে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় শিল্প, অর্থনীতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলো নিয়ে প্রার্থীকে সরাসরি প্রশ্ন করেন। আসলাম চৌধুরী সকল প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দেন এবং আশ্বাস দেন যে, স্থানীয় শিল্পাঞ্চলগুলোর উন্নয়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।
গণসংযোগের শেষ পর্যায়ে প্রার্থী ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এলাকার মানুষের সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন যে, তারা শিল্প, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একত্রিতভাবে কাজ করবে।তারা প্রত্যেকেই আশ্বস্ত হন যে, পরিকল্পিত শিল্পনীতি, নতুন কলকারখানা এবং পরিবেশ বান্ধব উদ্যোগে চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও শিল্পাঞ্চল সমৃদ্ধ হবে।



