অপরাধ

খিলগাঁওয়ে চাঁদাবাজদের স্বর্গ : প্রশাসনের ‘নীরবতায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই পেরিয়ে আগস্ট, আন্দোলন-সংঘর্ষ-রাজনৈতিক পালাবদলে পর ও দেশে দূর্নীতি মুক্ত করতে । তীব্র আন্দোলনের মুখে দাঁড়িয়ে পতন হয়েছিল শেখ হাসিনা সরকারের। ঝরে গিয়েছিল আমার দেশের কচিকাচাদের প্রাণের ত্যাগের তারপরেই দেশের ছাত্র-জনতা ফেটে পড়ে খুশিতে-উচ্ছ্বাসে। সামাজিক মাধ্যমে লেখা হতে থাকে, ‘স্বাধীনতার দিন। আসলে আজ আমরা কতটুকু স্বাধীনতা পেয়েছি তারই একমাত্র চিত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় আপরাধীর আমলনামা তাঁরই দ্বারা বাহিকতায় বলছিলাম।

রাজধানীর খিলগাঁও থানার আওতাধীন সিটি কর্পোরেশনের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজির কথা । বিশেষ করে উত্তর গোরান আদর্শবাগ এলাকায় চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ ও ফ্ল্যাট মালিকরা। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক চক্রের ইশারায় এই সব চাঁদাবাজি চললেও খিলগাঁও থানা পুলিশ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয়দের অভিযোগ।

নাইট গার্ড ও ময়লার নামে বাধ্যতামূলক আদায়

আদর্শবাগ এলাকার ফ্ল্যাট মালিক আজিজুল পারভেজ ও নূর ই আলম জানান, আগে এই এলাকায় নাইট গার্ড বা পাহারাদার বাবদ কোনো টাকা দিতে হতো না। কিন্তু বর্তমানে তাসিন, সোহেল, সোহাগ ও ফয়সালসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র ‘আদর্শবাগ সমর্থ সংসদের’ নামে প্রতি মাসে প্রতিটি বাসা থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করছে। কেবল এই খাত থেকেই মাসে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে। এছাড়া ময়লা পরিষ্কারের নামেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

নেপথ্যে রাজনৈতিক ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ

স্থানীয়দের দাবি, ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদের ইশারায় এই পুরো চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়: নবাবী মোড় এলাকা: সোহাগ ও তার সহযোগীরা নবাবী মোড় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

দোকানপাট: ওয়ার্ড-২ এর বিভিন্ন দোকান থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা তোলা হয়।

সাবেক কাউন্সিলরের প্রভাব: অভিযোগ রয়েছে, সাবেক কাউন্সিলর আনিসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাইফুলের মাধ্যমেও আদর্শবাগের একটি অংশের চাঁদাবাজি পরিচালিত হয়, যার লভ্যাংশ বিভিন্ন মহলে ভাগাভাগি হয়।

পানির পাম্প ও আদর্শবাগে জিম্মি এলাকাবাসি নূরবাগের পানির পাম্প এলাকার বাসিন্দা জামান ও ফয়সাল হোসেন অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে বারবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও খিলগাঁও থানা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এলাকাবাসীর মতে, পুলিশের এই নির্লিপ্ততা চাঁদাবাজদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। ফ্ল্যাট মালিক কে-আলম ও পারভেজ জানান, বর্তমানে এই এলাকায় শান্তিতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button