
মুহাম্মদ জুবাইর
বেকার ভাতা নয়,যুবকদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়া হবে,ডা.শফিকুর রহমান
জাতিকে বিভক্ত করে কাউকে পিছনে নিতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান।তিনি বলেছেন,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা টাকা নিয়ে ভোট চাইতে আসবে,তাদের পুলিশে তুলে দিতে হবে।তবে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়,সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সীতাকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসা মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা.শফিকুর রহমান বলেন, আজকের এই জনজোয়ার শুধু চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়।টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, জাফলং থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের পুরো বাংলাদেশ জেগে উঠেছে।বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে, আমরা আর ধান্দাবাজদের সঙ্গে নেই।আমরা আধিপত্যবাদের গোলামদের সঙ্গেও নেই। আমরা আজাদীর বাংলাদেশের পক্ষে।
তিনি বলেন,ইনশাআল্লাহ এই জাগরণ আজাদী নিশ্চিত করবে। আমরা সবক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চাই। আমার পাওনা আমি চাই,তোমার পাওনা তুমি নাও।কিন্তু আমার পাওনা তুমি নিয়ে যাবে,এটা আর মানা হবে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, স্বাধীনতার পর একে একে চুয়ান্ন বছর পার হয়ে গেছে।এই সময়ের মধ্যে সরকার এসেছে, সরকার গেছে। সরকারের লোকদের কপালের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু জনগণের জীবনের প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি। কিছু উন্নয়ন হয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু যা হওয়ার দরকার ছিল,তা হয়নি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বাজার থেকে দামী টুপি কেনা, তসবিহ আনা, কবর জিয়ারতের নাটক করা এসবই ধান্দাবাজ রাজনীতির অংশ। মানুষের মন জয়ের জন্য কেউ কেউ জ্যান্ত বাবারও কবর জিয়ারত করে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে পাশ দিয়ে সালাম দিলেও জবাব দেওয়ার সময় থাকে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা নির্বাচনের সময় টাকার বস্তা নিয়ে নামে,যারা গরিব ধনী নির্বিশেষে মানুষের ভোট টাকা দিয়ে কিনতে চায়,তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। তারা টাকা দিতে আসেনি,তারা এসেছে মানুষের ইজ্জত ও বিবেক কিনতে।
তিনি চট্টগ্রামের জনগণের কাছে প্রশ্ন রাখেন, কেউ যদি অবৈধ টাকা নিয়ে ভোট চাইতে আসে, আপনারা কি তাকে ছেড়ে দেবেন।তিনি বলেন, ধরে রেখে পুলিশে দেবেন।তবে নিজেরা আইন হাতে নেবেন না,শুধু পাহারায় রাখবেন।
আমীরে জামায়াত বলেন, একসময় স্লোগান ছিল, আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব। সেই দিন শেষ। ৩৬ জুলাইয়ে সেই রাজনীতির কবর রচনা হয়েছে। এখন পরিষ্কার কথা, আমার ভোট আমি দেব,তোমার ভোট তুমি দাও।আমার ভোটে হাত দিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হবে।
তিনি বলেন,কোনো ভয় নয়, কোনো চোখ রাঙানি নয়। এই দেশ আমার, আমি দেশ গড়ব,আমি দল পছন্দ করব।তুমি কে।
যুবক তরুণদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে যুবসমাজ কখনো বেকার ভাতা চায়নি। তারা বলেছে, আমাদের হাতে মর্যাদার কাজ দাও। আমরা কাজ করে দেশ গড়তে চাই।
তিনি বলেন, আমরা বেকার ভাতার ধারেকাছেও যাব না। আমরা প্রত্যেকটি যুবক যুবতী তরুণ তরুণীর হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করব। তারপর তাদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলব, এগিয়ে চলো, তুমিই বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ আর পিছনে যাবে না। সময় নেই, সুযোগ নেই। অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। আর জাতিকে বিভক্ত করে কাউকে পিছনে নিতে দেওয়া হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই বসবাস করে। চারটি ধর্ম মিলে বাংলাদেশকে ফুলের বাগানের মতো সাজানো হবে। ধর্মে বর্ণে কোনো বিভাজন টানা যাবে না। সবাই মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করবে, কারো করুণার পাত্র হয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায়।
তিনি বলেন, যুবকরা তৈরি হয়ে যাও। আমাদের এই দৌড়ঝাঁপ তোমাদের জন্য। এই বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, যারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলাবাজি করে, তাদের এসব ছাড়তে হবে। এগুলো হারাম। তারা চাইলে সুপথে ফিরে আসতে পারে। তাদেরও শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে মর্যাদার কাজ দেওয়া হবে। কারণ সবাই মিলেই বাংলাদেশ।এই কারণেই আমাদের স্লোগান ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।
মায়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মায়েরা আমাদের কাছে ঋণী করে রেখেছেন। গর্ভে ধারণ, দুধ পান করানো, লালন পালন এই ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। আমরা চাই মায়েদের মাথার তাজ হিসেবে সম্মানের আসনে বসাতে।
তিনি বলেন, একজন মা শিক্ষিত হলে একটি পরিবার শিক্ষিত হয়। পরিবার শিক্ষিত হলে সমাজ ও জাতি শিক্ষিত হয়। মা হচ্ছেন সমাজ ও সভ্যতার বুনিয়াদ।
তিনি আরও বলেন, মায়েদের নিয়ে যারা কটূক্তি করছে, তাদের এই আচরণই তাদের জন্য ফাঁস হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ এখন সব বোঝে। নিজে চালাক,বাকিরা বোকা এই সময় শেষ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে আক্রমণ হচ্ছে কারণ তিনি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ওরা আসলে তাদের হার মেনে নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের রায় ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ গণভোটে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ১৮ কোটি মানুষ ইনশাআল্লাহ ইনসাফের পক্ষে রায় দেবে।
শেষে তিনি বলেন,আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, কোনো দলের সরকার চাই না, কোনো পরিবারের রাজত্ব চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।সেই বিজয়ের সূচনা হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে।
তিনি চট্টগ্রামের সাতটি আসনে ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের আস্থার প্রতিদান দেওয়া হবে, জনগণের সঙ্গে কোনো বেইমানি করা হবে না।



