অন্যান্যনির্বাচনরাজনীতি

মহেশখালীকে স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে:ডা.শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহেশখালী: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের যে এলাকা যতটা বঞ্চিত, সে এলাকাকে আগে উপরের দিকে টেনে তোলা হবে। মহেশখালীকে একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এতে যুবসমাজের জন্য সম্মানজনক কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং বেকার ভাতার প্রয়োজন থাকবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মহেশখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি মহেশখালীতে আসার সময় আকাশ থেকে দেখেছেন, আল্লাহ তায়ালা এই জনপদকে অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। অথচ এত নিয়ামত থাকা সত্ত্বেও মহেশখালী আজও অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া। তিনি বলেন, আমি বহু উপজেলা শহর ঘুরেছি, কিন্তু মহেশখালীর মতো এতটা বিধ্বস্ত ও দরিদ্র টাউন আর চোখে পড়েনি। প্রশ্ন রাখেন, এত নিয়ামত থাকার পরও এই এলাকা কেন পিছিয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি, আপনারা আমার ভাই হামিদুর রহমান আযাদের হাতে আপনাদের আমানত তুলে দিন। আমরা আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেব ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত আমীর বলেন, মহেশখালীকে একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করা প্রয়োজন, আল্লাহ তায়ালার সাহায্য নিয়ে তা করা হবে। তখন এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কাজ করবে যুবক যুবতী, কাজ করবে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান। দল ও ধর্মের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। দেখা হবে শুধু যোগ্যতা ও দেশপ্রেম।

তিনি বলেন, যুবসমাজকে অপমানজনক বেকার ভাতা দেওয়া জামায়াতের দর্শন নয়। আমরা চাই সম্মানজনক কাজ। যুবকরা কখনো বেকার ভাতা চায়নি। তারা চেয়েছে কাজ করার সুযোগ, দেশ গড়ার সুযোগ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের পরিবর্তনের কারণেই আজ মহেশখালীতে আসা সম্ভব হয়েছে। তিনি মহেশখালীর শহীদ তানভীর সিদ্দিকীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বলেন, তাদের আত্মত্যাগ না হলে বাংলাদেশ গভীর অমানিশা থেকে বের হতে পারত কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। শহীদ তানভীর সিদ্দিকী ও তার সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

জামায়াত আমীর বলেন, তিনি মহেশখালীবাসীর কাছে দুটি জিনিস চাইতে এসেছেন। নিজের জন্য নয়, জাতির জন্য, দেশের মানুষের জন্য, মা বোনদের নিরাপত্তার জন্য এবং শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য। তিনি বলেন, আমরা কোনো আধিপত্যবাদ মানব না। এই দেশের জমিন আর কারও কাছে বন্ধক রাখা হবে না।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন সবাইকে নিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জোয়ার তুলতে হবে। যারা ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেবে, ১৮ কোটি মানুষ ধরে নেবে তারা আবার ফ্যাসিবাদ ও পরিবারকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্র চায়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের যুবকদের স্লোগান ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। তারা অধিকার চেয়েছে, ভিক্ষা চায়নি। নাগরিক হিসেবে মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অংশ চেয়েছে।

তিনি বলেন, মহেশখালী কুতুবদিয়া মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে এমন সম্ভাবনাময় এলাকা, যাকে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের চেয়েও উন্নত মানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিশ্বের এক উন্নত দেশে মাত্র ১৪ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাপক অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশে ২০২৪ সালের পাঁচ থেকে আট আগস্ট পর্যন্ত চার দিন কোনো সরকার না থাকলেও কোনো ব্যাংক ডাকাতি হয়নি, লুটপাট হয়নি, মা বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন হয়নি। প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ ভালো, সমস্যা নেতৃত্বে।

তিনি বলেন, মাথা ঠিক হলে সব ঠিক হবে। নেতৃত্ব সৎ হলে দেশ ঠিক হবে। চাঁদাবাজ ও ব্যাংক ডাকাত দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়া যাবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে লুণ্ঠিত অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২৮ লাখ কোটি টাকা। যা বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। এই টাকা জনগণের। তিনি বলেন, এই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে এবং ইনসাফের ভিত্তিতে সারাদেশে উন্নয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়নের জোয়ার শুধু শাসকদের বাড়িতে আর বাকি দেশে মরুভূমি এই ব্যবস্থা আর চলবে না।

তিনি বলেন,এই সমাজ মায়েদের সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ঘরে পথে কর্মস্থলে নারীর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আল্লাহর কাছে সেই তৌফিক কামনা করেন।

জামায়াত আমীর বলেন, আমরা বিভক্ত জাতি চাই না। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। তিনি ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা শুধু নিজেদের বিজয় চাই না। চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। গোষ্ঠী ও পরিবারের বিজয় জাতির সর্বনাশ ডেকে আনে। এই বিজয় আমাদের দরকার নেই।
শেষে তিনি বলেন, জয় পরাজয় আল্লাহর হাতে। স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে ১৩ তারিখ থেকে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে ইনশাআল্লাহ। সেই বাংলাদেশের গর্বিত অংশীদার হবে মহেশখালীবাসী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button