এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সালের হাজার কোটি টাকার সম্পদ: ৮৭ ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধ উপায়ে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (ট্যাক্স লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল। তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।
অবরুদ্ধ হলো যেসব সম্পদ আদালতের আদেশে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল, তাঁর স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজনসহ মোট ১৪ জনের নামে থাকা ৮৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। এসব ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
পাশাপাশি ফয়সাল ও তাঁর স্ত্রী আফসানা জেসমিনসহ ৭ জনের নামে থাকা ১৫টি সঞ্চয়পত্রও অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। একইসঙ্গে ফয়সালের স্ত্রী আফসানাসহ ৪ জনের নামে থাকা স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পদ লুকানোর চেষ্টা ও দুদকের পদক্ষেপ দুদকের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল। শুনানিতে তিনি জানান, কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তাঁর ও স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ‘জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পে’ ২ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে ৫ কাঠার একটি প্লট কিনেছিলেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি করে তাঁরা সেই প্লট বিক্রি করে দেন।
দুদকের অনুসন্ধানকারী টিমের সদস্য ও সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অভিযুক্তরা অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত বাকি সম্পদও বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এসব সম্পদ বেহাত হয়ে যাবে এবং রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আইনি প্রেক্ষাপট মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী, অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ যাতে হস্তান্তর, বিক্রি বা মালিকানা বদল হতে না পারে, সেজন্যই আদালত এই ক্রোক ও ফ্রিজ আদেশ দিয়েছেন। আদালতের এই আদেশের ফলে ফয়সাল বা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেউ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না এবং স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।



