অপরাধ

সিলেটে সংবাদকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি ও বসতবাড়িতে হামলা: থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের শাহপরাণ (রহ.) থানা এলাকায় এক পেশাদার সংবাদকর্মীকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং তার বসতবাড়ির গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে আজ (১০ জানুয়ারি) থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক। শাহপরাণ থানার জিডি নং- ৫০৪/২৬।

অভিযুক্তদের পরিচয়

জিডিতে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন সিলেট নগরীর বহর কলোনি ও ওসমানী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা:
১. সুজন মিয়া (৩০), পিতা: সুহেল মিয়া
২. এনাম মিয়া (৩৫), পিতা: মইনউদ্দিন
৩. রহিম হাজারী (৩৯), পিতা: মৃত সুলেমান হাজারী
৪. আখতার হোসেন (৩৫), পিতা: মৃত জলিল মিয়া

ঘটনার বিবরণ

জিডি সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের সঙ্গে ওই সংবাদকর্মীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জেরে গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা সিরাজ নগরে অবস্থিত ওই সাংবাদিকের বাড়িতে চড়াও হয়। সে সময় সাংবাদিক বাড়িতে ছিলেন না। অভিযুক্তরা তার নাম ধরে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকের স্ত্রী ভয়ে কোনো সাড়া না দিলে, অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে বসতঘরের পাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা কেটে ফেলে। যাওয়ার সময় তারা উচ্চস্বরে হুমকি দিয়ে বলে, “রাস্তাঘাটে কোথাও পেলে প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলা হবে।”

পূর্বের অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, এর আগেও অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি ও মারধর করেছিল। এ ঘটনায় গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি থানায় একটি জিডি (নং- ৫৮৪/২৫) করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই জিডির প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ বা সুরাহা তিনি পাননি বলে অভিযোগ করেন। পূর্বের অভিযোগটি ‘আলোর মুখ না দেখায়’ অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতা

প্রকাশ্য হুমকি এবং বাড়িতে হামলার ঘটনায় ওই সংবাদকর্মী ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তিনি পুনরায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে শাহপরাণ (রহ.) থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে (জিডি নং- ৫০৪/২৬)। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button