দুর্নীতি

হাটহাজারী এলজিইডিতে ‘ঘুষের রানী’ জয়শ্রী দে: ৫% কমিশনে জিম্মি ঠিকাদাররা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম: সরকার বদলায়, দিন বদলায়, কিন্তু বদলায় না চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চিত্র। উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে’র বিরুদ্ধে উঠেছে লাগামহীন দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ। তার অনিয়মে অতিষ্ঠ ঠিকাদাররা তাকে আখ্যায়িত করেছেন এলজিইডির ‘দুর্নীতির মুকুটহীন রানী’ হিসেবে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি কাজের বিলে বাধ্যতামূলক ৫ শতাংশ কমিশন এবং অতিরিক্ত ‘টেবিল মানি’ ছাড়া তিনি ফাইলে সই করেন না। তার এই ঘুষের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে অনেক ঠিকাদার কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শতভাগ কাজের ফাঁদ ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদাররা কাজ সম্পন্ন করার পর বিল পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রকৌশলী জয়শ্রী দে তৈরি করেছেন এক অদ্ভুত নিয়ম। ‘শতভাগ কাজ বুঝে নেওয়া’র অজুহাত দেখিয়ে তিনি দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখেন। মূলত এটি তার ঘুষ আদায়ের একটি কৌশল। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, কাজের মোট বরাদ্দের ৫ শতাংশ টাকা তাকে আগাম বুঝিয়ে না দিলে ফাইলের কোনো অগ্রগতি হয় না। এরপর বিল চেক সই করানোর সময় দিতে হয় বাড়তি ‘টেবিল মানি’।
প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে দাপট অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় সাবেক এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন জয়শ্রী। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও তার দাপট কমেনি। বর্তমানে তিনি বর্তমান সরকারের এক উপদেষ্টার ‘ছত্রছায়া’ ও ঘনিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ঠিকাদারদের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, তার খুঁটির জোর অনেক শক্ত, তাই ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হবে না।
নীরব ভূমিকায় নির্বাহী প্রকৌশলী উপজেলা প্রকৌশলীর এমন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির বিষয়ে একাধিকবার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আলীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি ‘নীরব দর্শকের’ ভূমিকা পালন করছেন। ঠিকাদারদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়মের প্রতিকার না পাওয়ায় তাদের মনে ধারণা জন্মেছে যে, এই দুর্নীতির ভাগ হয়তো উপরের মহলেও পৌঁছে যায়।

উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না—এই নীতির কারণে হাটহাজারীর সড়ক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত বহু প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘুষের টাকা যোগাতে হিমশিম খাওয়া ঠিকাদাররা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন, অনেকে পেশা বদল করছেন। ফলে সরকারের উন্নয়ন কাজের মান ও গতি দুটোই ব্যাহত হচ্ছে।
যা থাকছে আগামী পর্বে জয়শ্রী দে’র দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে? তার অবৈধ সম্পদের পাহাড় এবং সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ২য় পর্বে। চোখ রাখুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button