আইন ও বিচারচট্টগ্রামপ্রশাসন

আদালতের নির্দেশ অমান্য: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

স্টাফ রিপোর্টার: আদালতের রায় উপেক্ষা করে কর্ণফুলী নদীর জায়গা লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ফিরিঙ্গিবাজার মৌজার বিআরএস ৬০১ দাগের জমির বিষয়ে পরবর্তী সকল কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর করা একটি আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

যাদের বিরুদ্ধে রুল জারি হয়েছে আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচ কর্মকর্তা হলেন: ১. চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। ২. সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) ও অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান। ৩. সদস্য (অর্থ) মো. শহিদুল আলম। ৪. সদস্য (প্রকৌশল) কমোডর কাউসার রশিদ। ৫. সম্পত্তি বিভাগের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন।

আদালতের নির্দেশনা অমান্য করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও শুনানির বিবরণ কর্ণফুলী নদী রক্ষায় এইচআরপিবি-এর করা জনস্বার্থের মামলায় এর আগে হাইকোর্ট নদী রক্ষায় জরিপ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জরিপে ‘নদী’ হিসেবে চিহ্নিত ফিরিঙ্গিবাজার মৌজার বিএস ৬০১ দাগের জমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এইচআরপিবি আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে।

আদালতে বাদীপক্ষের শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “কর্ণফুলী নদী রক্ষার রায়ে আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে নদীর সীমানা রক্ষা এবং জলাধার সংরক্ষণ আইন মেনে চলার। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ আদালতের রায় অমান্য করে নদীর জায়গা লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগেও তারা একই ধরনের কাজ করায় তৎকালীন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।”

শুনানি শেষে আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল জারির পাশাপাশি বিতর্কিত ওই জমির বিষয়ে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

মামলায় আবেদনকারী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সারোয়ার আহাদ চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button