
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী ও শাপলা কলি প্রতীকের আরিফুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীরা ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে। তবে জনগণ এ ধরনের অপচেষ্টা রুখে দেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উত্তরার আজমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ঈদগাহের পূর্ব গেইটে আয়োজিত এক বিশাল নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন ও পরিবর্তনের ডাক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘মানুষ দেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। শাপলা কলি মার্কার গণজোয়ারে দিশেহারা হয়ে প্রতিপক্ষ ভোটের দিন কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমেই মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হবে। আর এই পরিবর্তনের কাণ্ডারি হবেন নারীরা, যারা তাদের সন্তানদের দেশপ্রেমিক ও ত্যাগের মানসিকতা দিয়ে গড়ে তুলেছেন।’’

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চায়। সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় জোট আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
প্রতিপক্ষের প্রতি অভিযোগ প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘একটি দল মুখে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বললেও বাস্তবে তারাই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা ও নারী নিপীড়নে জড়িত। যারা নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে?’’
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নারীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে আমরা ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধৈর্য ধরব। তবে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে উত্তরাবাসী আবারও জুলাইয়ের মতো গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’’

শহীদ ওসমান হাদী ও ন্যায়বিচার বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক শহীদ ওসমান হাদী হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে আমাদের মায়েরা লক্ষ লক্ষ হাদী জন্ম দিয়েছেন যারা দেশের স্বাধীনতা ও ইনসাফ রক্ষায় প্রস্তুত।’’
অন্যান্য বক্তা ও প্রতিরোধ যাত্রা সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, জাকসুর এজিএস (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এবং নুসরাত জাহান ইমা প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নারী নিপীড়নের প্রতিবাদে কয়েক হাজার নারীর অংশগ্রহণে একটি ‘প্রতিরোধ যাত্রা’ বের করা হয়। মিছিলটি আজমপুর থেকে শুরু হয়ে জসিমউদ্দীন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।



