অপরাধঅব্যাবস্থাপনাআইন-শৃঙ্খলাচট্টগ্রামপ্রশাসন

মামলার পরও বন্ধ নয় পাহাড় ধ্বংস,আকবর শাহে ড্রাইভার দিদারের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ

মুহাম্মদ জুবাইর

ক্ষমতার ছত্রছায়ায় লেকসিটিতে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা,প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকার লেকসিটি জয়ন্তীকা আবাসিকের ৪নং রোডে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে প্লট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি ড্রাইভার দিদারের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখের সামনে পরিবেশবিধি উপেক্ষা করে নির্বিঘ্নে পাহাড় কর্তন চালিয়ে যাচ্ছে।একাধিক মামলা দায়ের এবং প্রশাসনিক তৎপরতার খবর শোনা গেলেও বাস্তবে কাজ বন্ধ হয়নি বরং দিন দিন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে।এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে আবাসিক প্লট তৈরি ও বিক্রি করছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান রাতদিন ট্রাকভর্তি মাটি কেটে সরানো হচ্ছে।ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড়ের ঢাল সমান করা হচ্ছে এবং দ্রুতগতিতে প্লটের সীমানা নির্ধারণ ও বিক্রির কাজ চলছে।এর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।তবে এসব কার্যক্রমের কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

একাধিক সাংবাদিক ড্রাইভার দিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বলেন আপনারা যা খুশি তাই করেন।এ ধরনের বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।তাদের অভিযোগ প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় না থাকলে এভাবে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা সম্ভব নয়।

এলাকাবাসীর দাবি একাধিকবার প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।এমনকি অভিযোগ রয়েছে অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন বন্ধ থেকে পুনরায় একই কার্যক্রম শুরু হয়।ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে আইনের প্রয়োগ কি সবার জন্য সমান নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা নিয়ম।

নীরব ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়।স্থানীয়দের ভাষ্য প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা চললেও কার্যকর নজরদারি নেই।পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পাহাড় কর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন পাহাড় প্রাকৃতিকভাবে পানি ধারণ ও নিষ্কাশনের ভারসাম্য রক্ষা করে।অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে ফেললে মাটির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভারী বর্ষণে ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।চট্টগ্রাম অতীতে একাধিকবার ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা দেখেছে যেখানে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলো আশঙ্কা করছেন হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।স্থানীয়রা বলছেন এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য প্রাণহানির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এলাকাবাসী দ্রুত পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ,জড়িতদের আইনের আওতায় আনা,পরিবেশ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আর না ঘটে সে জন্য কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।তাদের ভাষায় পরিবেশ ধ্বংস করে উন্নয়ন নয় টেকসই পরিকল্পনাই হতে হবে চট্টগ্রামের নিরাপদ ভবিষ্যতের একমাত্র পথ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button