পিরোজপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দম্পতির ‘অর্থের পাহাড়’: আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেনে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক । পিরোজপুর
পিরোজপুরের ভা-ারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রায় হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ‘সন্দেহজনক’ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৯৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও ২,৬৭৯ কোটির লেনদেন মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম তাঁর বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান—ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
সম্পদের বিবরণ: তাঁর ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার স্থাবর (জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট) এবং ৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকার অস্থাবর (শেয়ার, বিনিয়োগ ও ৯টি গাড়ি) সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। আয়ের অসঙ্গতি: পারিবারিক ব্যয়সহ তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা হলেও বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ৯৯ কোটি টাকার সম্পদের কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।
মানি লন্ডারিং: সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ হলো, তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে ২ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা অবৈধভাবে জমা ও স্থানান্তর করেছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে বড় ধরনের অপরাধ। স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১২২ কোটির রহস্যজনক লেনদেন মিরাজুলের স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুদক।
তাঁর মালিকানাধীন ‘মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ’ এলজিইডির ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্পের কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অবৈধ সম্পদ: তাঁর দখলে প্রায় ২৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে।
সন্দেহজনক লেনদেন: শামীমা আক্তারের ব্র্যাক ব্যাংকের একটি হিসাব থেকেই ১২২ কোটি টাকার বেশি অর্থ সন্দেহজনকভাবে স্থানান্তর ও হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে দায়ের করা এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, এই দম্পতি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করে বিশাল বিত্ত-বৈভব গড়ে তুলেছেন। বিষয়টি বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।



