শিক্ষক অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে সংস্কার: অনিয়ম ঠেকাতে আসছে নতুন নীতিমালা ও স্থায়ী কাঠামো

নিজস্ব প্রতিবেদক । ঢাকা
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্টে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম ও আর্থিক বিশৃঙ্খলা দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে অর্থ উত্তোলনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘আয়ন-ব্যয়ন’ কর্মকর্তা হিসেবে অস্থায়ী কোনো ব্যক্তির পরিবর্তে স্থায়ী পদধারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ট্রাস্ট দুটির পরিচালনা পর্ষদেও আনা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
নিরীক্ষায় ধরা পড়েছে ভয়াবহ অনিয়ম
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত এক বিশেষ নিরীক্ষায় (অঁফরঃ) এই দুই প্রতিষ্ঠানে একাধিক অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে:
আইন লঙ্ঘন: প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী তহবিলের অর্থ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে না রেখে নিয়ম ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল।
ভুয়া ইনডেক্স জালিয়াতি: জাল ইনডেক্স তৈরি করে এবং একই ইনডেক্সের বিপরীতে একাধিকবার অর্থ উত্তোলন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্বচ্ছতার অভাব: অস্থায়ী পদধারী কর্মকর্তাদের হাতে অর্থ উত্তোলনের ক্ষমতা থাকায় জবাবদিহিতার ঘাটতি ছিল প্রকট।
অর্থ উত্তোলনে নতুন আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের প্রক্রিয়ায়। প্রস্তাবিত নতুন অধ্যাদেশে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে কোনো অস্থায়ী ব্যক্তিকে আর সুযোগ দেওয়া হবে না। পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের ‘পরিচালক’ (যিনি একজন স্থায়ী পদধারী কর্মকর্তা) পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে অর্থ উত্তোলনের প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও নতুন ৪ সদস্য
প্রতিষ্ঠান দুটির যথাযথ প্রতিনিধিত্ব এবং গতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ২১ জন সদস্যের পাশাপাশি নতুন আরও ৪ জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া সদস্যরা হলেন: ১. মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। ২. চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। ৩. কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের একজন মনোনীত কর্মকর্তা। ৪. পরিচালক, অবসর সুবিধা বোর্ড/কল্যাণ ট্রাস্ট (যিনি পদাধিকারবলে সদস্য সচিব হবেন)।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: হয়রানিমুক্ত অবসর সুবিধা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কাঠামোগত পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য টাকা দ্রুততম সময়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে প্রদান করা। বিশেষ করে ভুয়া ইনডেক্স জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত হলে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও হয়রানির অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।



